শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সুনামগঞ্জে ‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিলে গ্রাহকের ভোগান্তি

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২১, ০২:২৩ এএম

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরাম ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে পল্লীবিদ্যুতের অস্বাভাবিক বিল নিয়ে অতিষ্ঠ গ্রামের ৭ শতাধিক গ্রাহক। গ্রাহকদের অভিযোগ একমাসে ১০০ টাকার বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিল আসছে এক হাজার টাকা। আর ৫০০ টাকার বিদ্যুৎ বিলের জায়গায় বিল আসছে ৭ হাজার টাকা। ব্যবহারের চেয়ে ৬/৭ গুণ বেশি বিদ্যুৎ বিল আসছে। এমন ‘ভুতুড়ে বিল’ পাওয়ার অভিযোগ গ্রামের প্রায় সব গ্রাহকের। 

সম্প্রতি সরেজমিন জানা গেছে, গ্রামের কৃষক আহমদ মিয়া ২০১৭ সাল থেকে ঘরে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আসছেন। তার ঘরে ৩টি বাতি আর দুটি ফ্যান। গেল কয়েক বছরে তার বিল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে আসত। গত আগস্ট মাসে তার বিল এসেছে ৪৬০ টাকা। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসে হঠাৎ বিল এসেছে ৭ হাজার ৬০০ টাকারও বেশি।

আহমদ মিয়া বলেন ‘৪ সন্তান আর পরিবার নিয়ে যেখানে সংসারই চলে টেনেটুনে সেখানে এই বিল তার মাথায় বাজ পড়ার মতো। এ বিল কীভাবে সম্ভব।’ গ্রাম ঘুরে গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল গ্রামের প্রায় সব গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিলের একই রকম চিত্র।

কবির হোসেন বলেন, ‘আমার ১০৩ টাকার বিলের জায়গায় এসেছে ১৪০০ টাকা। কারও ৯০ টাকার জায়গায় ১ হাজার টাকা। অথচ আমি গেল কয়েক বছর ধরে একই বিল দিয়ে আসছি। এমন বিল পরিশোধ কীভাবে করব।’

আরেক গ্রাহক আলাউদ্দিন বলেন, ‘গত কয়েক মাস পল্লীবিদু্যুতের কেউ মিটার দেখতে আসেনি। অথচ মাস শেষে এমন অস্বাভাবিক বিল পাঠিয়ে দেয়, এসব বিল সংশোধন না করে দিলে আমরা আর বিল পরিশোধ করব না।’

গ্রামের রহমত আলীর ঘরের বিদ্যুতের মিটারে দেখা যায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যবহার হয়েছে ৮২০ ইউনিট। অথচ ১৩ সেপ্টেম্বর দেওয়া বিলের কাগজে দেখা যায় ব্যবহার হয়েছে ৯২০ ইউনিট। তার বিল এসেছে ১৪০০ টাকা, যেখানে গত আগস্ট মাসে তিনি বিল দিয়েছেন ৪০০ টাকা।

গ্রামের বাসিন্দা আশরাফ হোসেন বলেন, ‘এ গ্রামে ২০১৭ সালে বিদ্যুৎ আসার পর থেকেই গেল দুমাসে এমন ‘ভুতুড়ে বিল’ আসছে। পুরো গ্রামের সবার বিলের বিষয়ে আমরা অফিসে যোগাযোগ করলেও কোনো লাভ হয়নি, এ অবস্থায় গ্রামবাসী বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ভোগান্তিতে আছে।’ পল্লীবিদ্যুতের ‘ভুতুড়ে বিল’ প্রত্যাহার এবং ক্ষোভ জানিয়ে গ্রামে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন গ্রামবাসী।

সুরমা ইউনিয়নের ৪, ৫, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য সাজিয়া আক্তার বলেন, ১০০ টাকার বিল ১ হাজার টাকা, ৫০০ টাকার বিল ৭ হাজার টাকা এমন ভুতুড়ে বিলের ব্যাপারে গ্রামবাসী দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছিল। এ নিয়ে পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে বারবার অভিযোগ দিয়েও কাজ হয়নি। এ অবস্থায় প্রশাসন কোনো উদ্যোগ না নিলে গ্রামবাসীর ভোগান্তি আরও বাড়বে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পল্লীবিদ্যুৎ বোর্ড সুনামগঞ্জের মহাব্যবস্থাপক সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, গরম বেশি পড়ায় গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারও বেশি হয়েছে। তাই বিল বেশি এসেছে, মিটার রিডাররা অফিসে বসে বিল তৈরি করার কোনো সুযোগ নেই। তবে অস্বাভাবিক বা বাড়তি কোনো বিলের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত