শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

দৃষ্টিশক্তি হারানো বিএনপি নেতা শাহ্জাহানের সঙ্গে ফখরুলের সাক্ষাৎ

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২১, ০৯:২৯ পিএম

বিএনপি নেতা মো. শাহ্জাহান দেওয়ানের সঙ্গে দেখা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি জানায়, ২০১৫ সালে বিএনপির টানা তিন মাসের অবরোধ কর্মসূচির সময় পুলিশের হামলায় আহত হয়ে দুই চোখ হারান টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার শাহ‌্জাহান দেওয়ান।

সাক্ষাতে বিএনপি মহাসচিব মো. শাহ্জাহান দেওয়ান এর চোখ হারানো ঘটনা শোনেন এবং তার সু-চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন বলে জানান। 

মির্জা ফখরুল বলেন, সারাদেশে বিএনপির অনেক নেতা গুম হয়েছে, অনেককে জীবন দিতে হয়েছে। অধিকাংশ নেতাকর্মী মামলায় জর্জরিত। আন্দোলনের সময় পুলিশ ও আওয়ামী বাহিনীর হামলায় অনেকে আহত হয়ে পঙ্গু হয়েছেন। শাহ্জাহান দেওয়ানও পুলিশের হামলার শিকার হয়ে দুই চোখ হারিয়ে আজ মানবেতর জীবনযাপন করছে। আমি তার দীর্ঘায়ু ও সুস্থ্যতা কামনা করছি। এ সময় বিএনপি মহাসচিব শাহ্জাহান দেওয়ানের ছেলে সাংবাদিক নেতা ডি এম আমিরুল ইসলাম অমরকে মোবাইল নাম্বার ও ঠিকানা লিখে দিতে বলেন এবং সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বাস দেন। 

রোববার (৩ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম ও মো. শাহ‌্জাহান দেওয়ানে  ছেলে সাংবাদিক নেতা ডি এম আমিরুল ইসলাম অমরসহ বেশ কয়েকজন নেতৃতৃন্দ উপস্তিত ছিলেন।   

মো. শাহ‌্জাহান দেওয়ান বলেন, ছোটবেলা থেকেই বিএনপি করি। আন্দোলনে দুই চোখ হারিয়ে আমি খুব কষ্টে দিন পার করছি। কখন যে মরে যাই তার ঠিক নাই। আমি মরে গেলে আমার পরিবারের দিকে একটু খেয়াল রাখবেন। আমার ছেলে (ডি এম আমিরুল ইসলাম অমর) বিএনপি দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ। আপনি অভিভাবকের মতো আমার ছেলের দিকে খেয়াল রাখবেন। 

একপর্যায়ে কথা বলতে বলতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। 

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০১৫ সালে বিএনপির টানা ৩ মাসের অবরোধের সময় টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির মিছিলে পুলিশ বাধা দেয় ও লাঠিপেটা করে। এতে মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। সে সময় মির্জাপুর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের ৮ নম্ব ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি মো. শাহ‌্জাহান দেওয়ান গুরুতর আহত হন। তার মাথায় ও পিঠে লাঠির আঘাত লাগে এবং পড়ে গিয়ে মাথায়ও আঘাত পান। এরপর সপ্তাহখানেকের মধ্যে এক চোখের দৃষ্টি চলে যায়। পরে মাসখানেকের মধ্যে আরেকটি চোখের দৃষ্টিও চলে যায়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত দুই চোখের দৃষ্টি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে করছেন মো. শাহ্জাহান দেওয়ান।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত