ঢাকার দোহারে পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে নদীর তীরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় নয়াবাড়ি ইউনিয়নে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার অধিক ব্যয়ে বাঁধের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। বাকি আরও তিন কিলোমিটার বাঁধের কাজ শুরু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এরই মধ্যে বাঁধে দেখা দিয়েছে ভাঙন।
পদ্মানদীতে অবৈধভাবে বালু কাটায় এবং নদীর পাড় ঘেঁষে বাল্কহেড দিয়ে ড্রেজারে বালু উত্তোলনের কারণে এমন ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বুধবার সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাঁধের অনেকাংশ ভেঙে গিয়ে পাথরের ব্লকগুলো সরে যাচ্ছে। অনেকে আবার বাঁধের ওপর দিয়ে নিয়েছে ড্রেজারের পাইপ। স্থানীয় বেশ কয়েকজন ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী ব্যক্তি পদ্মায় কাটার দিয়ে ও বাঁধের পাড়ে বাল্কহেড দিয়ে বালু উত্তোলন করছে।
আরও জানা গেছে, প্রশাসনের অভিযানের পরেও থেমে নেই বালু উত্তোলন। ভাঙনের কারণে নয়াবাড়ি ইউনয়নে পদ্মার পাড়ের মানুষের মাঝে নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার ভেঙে যাওয়া বাঁধের স্থান পরিদর্শনে আসেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী দেওয়ান আইনুল হক, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মিশু সহ একাধিক প্রতিনিধি দল।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নয়াবাড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে এই বাঁধের ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। অবৈধভাবে বালু ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। কারও ব্যক্তিস্বার্থের কারণে এটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, জানি না কোনো অদৃশ্য শক্তির কারণে বা ক্ষমতার জোরে তারা এখনো ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। আমার ঘরবাড়ি এই পদ্মায় ভেঙে গেছে, আমি জানি ঘরবাড়ি ভাঙার কষ্ট। তাই শিগগিরই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন বলেন, বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন কর্মকাণ্ড কেউ করলে তাদের ছাড় দেয়া হবে না। এ ছাড়া যদি কেউ দোহারের সীমানায় পদ্মা নদীতে অবৈধ কাটার দিয়ে বালু উত্তোলন করে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএফএম ফিরোজ মাহমুদ বলেন, সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে যথা শিগগিরই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
