অবশেষে মেয়েদের হাইস্কুলে পড়ার অনুমতি দিচ্ছে তালেবান

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৭:৩১ পিএম

তালেবানরা ‘খুব শীঘ্রই’ আফগান মেয়েদের জন্য হাইস্কুল খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেবে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের ইউনিসেফের উপ-নির্বাহী পরিচালক ওমর আবাদি।

তিনি বলেছেন, তালেবানরা তাকে বলেছে যে তারা ‘খুব শীঘ্রই’ ঘোষণা করবে যে, সমস্ত আফগান মেয়েদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ার অনুমতি দেওয়া হবে।

গত সপ্তাহে কাবুল সফর করে এসে জাতিসংঘের সদর দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি বলেন, আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে পাঁচটি প্রদেশ তথা উত্তর-পশ্চিমের বালখ, জাওজান এবং সামঙ্গান, উত্তর-পূর্বের কুন্দুজ আর দক্ষিণ-পশ্চিমের উরোজগান প্রদেশ ইতিমধ্যেই মেয়েদের হাইস্কুলে যাওয়ার অনুমতি দিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, তালেবানের শিক্ষামন্ত্রী তাকে বলেছিলেন যে তারা ‘একটি কাঠামো’ নিয়ে কাজ করছেন যাতে সব মেয়েদের ষষ্ঠ শ্রেণীর পরেও তাদের স্কুলশিক্ষা চালিয়ে যেতে দেওয়া যায়। আগামী ‘এক থেকে দুই মাসের মধ্যে’ এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হবে।

তালেবানরা তাদের প্রথম মেয়াদের শাসনের সময় (১৯৯৬-২০০১) আফগানিস্তানের নারীদের শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিল এবং তাদের কর্ম ও সামাজিক জীবনে নানা বাধা আরোপ করেছিল। এবারও তারা ক্ষমতায় আসার পর মেয়েদের হাইস্কুল বন্ধ করে দেয় এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত ছাড়া অন্য কোনো খাতে নারীদের কাজ করা নিষিদ্ধ করে।

আবাদি বলেন যে, প্রতিটি সভায় তিনি তালেবানদের চাপ দিয়েছিলেন এই বলে যে ‘মেয়েদের তাদের শিক্ষা পুনরায় শুরু করতে দিন’ এবং এটিকে ‘মেয়েদের নিজেদের এবং সমগ্র দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ’ বলেও অভিহিত করেছেন।

তিনি বলেন, ২০০১ সালে যখন মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য তালেবানকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করেছিল, তখন মাত্র দশ লাখ আফগান শিশু স্কুলে যেত।

গত ২০ বছরে এই সংখ্যাটি ১ কোটিতে পৌঁছেছে, যাদের মধ্যে ৪০ লাখই মেয়ে শিশু। আর গত এক দশকে স্কুলের সংখ্যা ৬ হাজার থেকে বেড়ে ১৮ হাজার হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘গত দুই দশকের শিক্ষা অর্জনকে শক্তিশালী করতে হবে এবং পিছিয়ে পড়তে দেওয়া যাবে না’।

জাতিসংঘ শিশু তহবিলের উপপ্রধান বলেন, কিন্তু এই অগ্রগতি সত্ত্বেও এখনো ৪২ লাখ আফগান শিশু স্কুলে যেতে পারে না, যাদের মধ্যে ২২ লাখই মেয়ে শিশু।

আবাদি বলেন, তালেবানরা মেয়েদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ার অনুমতি দিলেও রক্ষণশীলদের মধ্য থেকে ফের বাধা আসতে পারে। এর জন্য তালেবানকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমি যে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করেছি তারা বলেছে যে, তারা যে কাঠামোটি নিয়ে কাজ করছে সেটি বাস্তবায়ন করার পর আরও বেশি অভিভাবক তাদের মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে উৎসাহিত হবে। কারণ এটি রক্ষণশীল সমাজে মেয়ে ও ছেলেদের এবং নারী শিক্ষকদের আলাদা রাখার বিষয়ে যে উদ্বেগ রয়েছে তার সমাধান করবে। ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদাভেবে শিক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত