মিলছে না ইলিশ, জেলেদের উচ্ছ্বাস পরিণত হয়েছে বিষাদে

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১১:৩৩ এএম

সরকার আরোপিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনা নিয়ে নদীতে ইলিশ ধরতে নেমেছিলেন জেলেরা। তবে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে আসছেন তারা। নদীতে ইলিশ কম পাওয়ায় প্রভাব পড়েছে আড়তেও।

বিক্রেতারা বলছেন, ইলিশ সরবরাহ কম থাকায় জেলেদের পাশাপাশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারাও। দাম নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের নাগালের বাইরে বলে জানিয়েছে মাছ কিনতে আসা ক্রেতারা।

সোমবার মধ্যরাত থেকে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ ধরতে নেমেছে জেলেরা। মঙ্গলবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত চাঁদপুরের হরিণা ফেরিঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জেলেরা মাছ ধরতে কেউ জাল-নৌকা নিয়ে ছুটে চলছে মাঝ নদীতে। আবার অনেকেই মাছ ধরা শেষে ফিরে আসছেন তীরে।

তবে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পেয়ে অধিকাংশ জেলেই হতাশ হয়ে ফিরছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা জাল ফেলেও মাছের দেখা পাচ্ছেন খুবই অল্প। আর তাই নদীতে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরও জেলেদের উচ্ছ্বাস পরিণত হয়েছে বিষাদে।

মোক্তার হোসেন নামের এক জেলে বলেন, ‘হারা রাইত (পুরো রাত) গাঙ্গো (নদীতে) জাল বাইছি, কিন্তু মাছের কোন দেহা (দেখা) নাই। আষ্টো (আট) জনে জাল বাইয়া ১০ হাজার টেহার মাছ বেচচি। অহন নৌকার খবর দিয়া কত টেহা (টাকা) পামু ভাগ করতে কইতে পারমু।’

জেলে হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘অভিযান শেষ অওনে আমরা বড় আশা করই না গাঙ্গো নামছি। তয়, মাছ না পাওনে আমগো আশা ভাইঙ্গা গেছে। এত দিন যে ঋণ-ফিন কইরা চলচি, হেই টেহা কেমনে শোধ করমু আল্লায়ই জানে। আমনেও (ভবিষ্যতেও) যদি মাছ না পাই, তয় আমগো দুঃখের শেষ থাকবো না।’

তিনি বলেন, ‘জাটকার মৌসুমে নির্বিচারে জাটকা মারণে গাঙ খালি হইয়া গেছে। গত বছর, এই বছর মৌসুমেও মাছ পাই নাই। সরকারে অভিযান যদি ঠিকমতো পালন করে, কাউকে যদি অভিযানে মাছ ধরতে না দেয়, তয় যদি গাঙ্গো মাছ বাড়ে।’

নদীতে মাছ ধরা কম পড়ায় নদীর পাড়ের আড়তগুলোতে ইলিশের সরবরাহ অনেক কম। তাই আড়তের অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা অলস সময় পার করছেন। মাছের তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা বেশি থাকায়, জেলেরা মাছ নিয়ে আসলেই হুমড়ি খেয়ে পড়ে ক্রেতারা।

চাঁদপুর শহর থেকে মাছ কিনতে আসা ক্রেতা মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, সকাল সকাল নদীর তাজা ইলিশ কিনতে ঘাটে আসলাম। তবে মাছের দাম অনেক বেশি। সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশি চাচ্ছেন বিক্রেতারা।

তিনি বলেন, ১ কেজি ওজনের মাছ কেজি প্রতি দাম চাচ্ছে ১৫শ’ টাকা। সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এটা অনেক বেশি।

আরেক ক্রেতা ফরিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা যারা খেটে খাওয়া মানুষ, তাদের এই দামে ইলিশ খাওয়া সম্ভব নয়। আমাদের মাছ দেখেই খুশি থাকতে হচ্ছে। ইচ্ছে থাকলেও এই দামে খাওয়ার সুযোগ নেই।’

ইলিশ ব্যবসায়ী বিল্লাল ছৈয়াল বলেন, ‘জেলেদের মতো আমরাও অনেক আশা নিয়ে আড়তে এসেছি। কিন্তু মাছ না থাকায় অনেক ক্ষতির মুখে পড়ছি। আমাদের যে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে, এত কম মাছ ঘাটে আসলে সেই টাকা তোলা সম্ভব হবে না।’

ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন, সরবরাহ কম থাকায় ইলিশের দাম কিছুটা বেশি যাচ্ছে। বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৩শ’ টাকা কেজি দরে।

এছাড়া ৭শ’ থেকে ৯শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি প্রতি ৮শ’ থেকে ৯শ’ টাকা এবং ছোট সাইজের ইলিশ সাড়ে ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত