ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগে সর্বাধুনিক ক্যাথল্যাবে হচ্ছে স্ট্রোকের রোগীর ব্রেইনে রিং বসানোর মতো উন্নত চিকিৎসা। দেশে একমাত্র এই ল্যাবেই মিলছে সর্বাধুনিক এই চিকিৎসাসেবা।
বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষে বুধবার নিউরোসার্জারি বিভাগের সেমিনার হলে এক ‘লাইভ স্ট্রোক ইন্টারভেনশন’ কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়। প্রতি বছর ২৯ অক্টোবর বিশ্ব স্ট্রোক দিবস পালন করা হয়।
কর্মশালায় ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রি. জেনারেল নাজমুল হক বলেন, স্ট্রোকের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ জটিল রোগী এই হাসপাতালে আসেন। নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এই বিভাগের চিকিৎসকরা।
তিনি বলেন, ‘ঢামেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগে গড়ে ছয় শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। দিনে গড়ে ৫০ জনের মতো নতুন রোগী আসেন। তাদের মধ্যে প্রতিদিন ৭-১০ জনের সার্জারি করা সম্ভব হয়।’
ঢামেক হাসপাতাল পরিচালক বলেন, ‘স্ট্রোকের চার ঘণ্টার মধ্যে রোগীকে হাসপাতালে আনা সম্ভব হলে কিছু ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা করা সম্ভব। আমরা এই ওষুধগুলোর বেশিরভাগ বিনামূল্যে দিয়ে থাকি।’
তিনি জানান, স্ট্রোকের রোগীদের চিকিৎসার জন্য ২০ শয্যার পৃথক স্ট্রোক সেন্টার প্রতিষ্ঠার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এখানে ১০টি আইসিইউ-এইচডিইউ শয্যা থাকবে। ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা চালুরও আশ্বাস দেন হাসপাতাল পরিচালক।
কর্মশালায় বলা হয়, স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীকে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা দেওয়া গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চিকিৎসা নিয়ে পরদিনই রোগী হেঁটে বাসায় ফিরতে পারবেন। অনেকে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীকে হৃদ্রোগ ভেবে সময় নষ্ট করেন, যা রোগীর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
প্রতি চারজনের একজন স্ট্রোকের ঝুঁকিতে আছে জানিয়ে এতে আরও বলা হয়, স্ট্রোক চিনতে তিনটি বিষয় খেয়াল করতে হবে। এক. মুখ একদিকে ঝুলে পড়া। দুই. হাত একদিকে ঝুলে পড়া। তিন. কথা জড়িয়ে যাওয়া।
নিউরোসার্জারি বিভাগের ইউনিট প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. রাজিউল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের অ্যাডভাইজার স্পেশালিস্ট ব্রি. জেনারেল সৈয়দ জহিরুল আলম চৌধুরী, ঢামেক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. দেবেশ সি. তালুকদার, নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শফিকুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক ডা. আহমেদ হোসাইন চৌধুরী প্রমুখ।
এর আগে সকালে ‘না করলে সময়ক্ষেপণ, স্ট্রোক হলেও বাঁচবে জীবন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন ঢামেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. টিটু মিয়া।
