বাংলা মায়ের বোল না ভুলে যাওয়া শচীন দেববর্মণের প্রয়াণ দিবস

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২১, ০১:৫৯ পিএম

সব ভুলে গেলেও বাংলা মায়ের বোল ভুলে না যাওয়া শচীন দেববর্মণের প্রয়াণ দিবস আজ। প্রয়াণ দিবসে অনন্ত শ্রদ্ধা তার প্রতি। ১৯৭৫ সালের এই দিনে বাংলা সংগীতের এই কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব লোকান্তরিত হন। কিন্তু থেকে যায় তার সৃষ্টি। ক্ষণে ক্ষণে যে সংগীত স্রষ্টার কাছে ফিরতে হয় সবাইকে।

শচীন কর্তা ছিলেন বাস্তবিকই এক রাজপুত্র। ১৯০৬ সালের ১ অক্টোবর ত্রিপুরার রাজপরিবারে তার জন্ম। আমাদের জনপদ কুমিল্লা জিলা স্কুল থেকে ১৯২০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে আই.এ। তা শেষে চলে যান কলকাতা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সংগীতের নেশায় অসমাপ্ত থাকে তার শিক্ষাজীবন।

কৃষ্ণ চন্দ্র দে’র কাছে প্রথম সংগীতে হাতেখড়ি শচীনের। এরপর শিখেছেন ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়ের থেকে। বিশ্বসংগীতের মায়েস্ত্রো বিবেচিত উস্তাদ আলাউদ্দিন খান’ও ছিলেন তার সংগীত গুরু। এস.ডি বর্মণ সাহচর্য পেয়েছেন বাংলার বুলবুল খ্যাত আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামেরও। গেয়েছেন তার সুরেও।

গত শতকের ২০ এর দশকে ভারতবর্ষের রেডিওতে ধ্রুপদি সংগীত গেয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন শচীন দেব বর্মণ। ১৯৩২ সালে তার প্রথম অডিও রেকর্ড প্রকাশ হয়। বাংলার লোকসংগীত আর ভারতীয় ধ্রুপদি সংগীতের মিশেলে তিনি হয়ে ওঠেন অন্য সকলের চেয়ে আলাদা।

১৯৩৪ সালে এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিমন্ত্রণে অল ইন্ডিয়া মিউজিক কনফারেন্সে অংশ নেন এস.ডি.বর্মণ। একই বছর তিনি কলকাতায় আয়োজিত বেঙ্গল মিউজিক কনফারেন্সে অংশ নেন। এ আয়োজনের উদ্বোধন করেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এ আয়োজনে পারফরমেন্স গুণে শচীন কর্তা স্বর্ণ পদক অর্জন করেন।

ভারতবর্ষে গান ছাড়া ছবি জমে না। প্লেব্যাকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন শচীন কর্তা। এ মাধ্যমে তার গাওয়া প্রথম ছবিটির নাম ছিল ‘সাঁঝের পিদিম’। প্রথমে ছিলেন শুধু কণ্ঠশিল্পী। পরে সংগীত পরিচালক হিসেবে বিপুলভাবে সমাদৃত হয়ে ওঠেন এস.ডি বর্মণ। ক্যারিয়ার জুড়ে ১০০ রও বেশি সিনেমায় সংগীত পরিচালনা সে কীর্তিরই সাক্ষ্য বহন করেন। 

১৯৩৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি গীতিকবি ও সংগীত সমর্পিত নারী মীরা দাশগুপ্তের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন শচীন। রাজপরিবারের যেন কূলনাশ ঘটে এতে! ভালোবাসার টানে তিনি ছিন্ন করেন পারিবারিক রাজপরিবারের সঙ্গে সকল সম্পর্ক। এ দম্পতির একমাত্র সন্তান আরেক সংগীত মায়েস্ত্রো রাহুল দেব বর্মণ (আর.ডি. বর্মণ)।

শচীন কর্তার ইংরেজিতে প্রকাশিত আত্মজীবনীর নাম ‘ইনকমপেয়ারাবল শচীন দেব বর্মণ’। একটি মজার তথ্য দেয়া যেতে পারে এ পর্যায়ে। পৃথিবী কাঁপানো ক্রিকেট জিনিয়াস শচীন টেন্ডুলকারের নামকরণ করা হয় এই সংগীত মায়েস্ত্রো আলোড়িত পরিবার কর্তাদের আগ্রহে।   

যুগে যুগে কালে বাংলা সংগীত ফিরে আসে শচীন দেব বর্মণের কাছে। মৃত্যুতেও যার বিনাশ নেই। হালের তরুণেরা রিমিক্স, ম্যাশআপে আরও অন্য মাত্রায় নিচ্ছেন এ অজর সংগীত স্রষ্টাকে। শচীন কর্তার সংগীত মহত্ত্বের শ্রেষ্ঠত্ব হয়তো এখানেই।

লেখক: ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত