টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ডে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হারে বাংলাদেশ দলের আত্মবিশ্বাসে বড় আঘাত লাগে। ওই ব্যর্থতার পর দলের ওপর হতাশা প্রকাশ করেছিলেন নাজমুল হাসান পাপন। বিসিবি প্রধান স্কটিশদের বিপক্ষে দলের ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ওই ম্যাচে কোনো ইতিবাচক দিক খুঁজে পাননি। ম্যাচের পরদিন কোচের সঙ্গে জুম মিটিংয়ে সরাসরি প্রশ্ন করেছিলেন নাঈম শেখকে না খেলানো নিয়ে। সেই ধাক্কা সামলে বাংলাদেশ ফিরে আসে টুর্নামেন্টে। মূলপর্ব নিশ্চিত করে ওমান ও পিএনজির সঙ্গে জিতে। কিন্তু মূলপর্বে একটি ম্যাচও জিততে পারেনি। হতাশার বিশ্বকাপের পর এই প্রথম সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিসিবি প্রধান জানান- একটি আসরে খারাপ করেছে বলে ক্রিকেটারদের সমালোচনা করা উচিত নয়। বিশ্বকাপ ব্যর্থতার কারণ বের করতে নির্ধারিত কমিটির রিপোর্ট এখনো পাননি পাপন। এছাড়া রাসেল ডমিঙ্গোর ভবিষ্যৎ কী হবে সেই সিদ্ধান্তও তুলে রাখলেন আরও মাস খানেকের জন্য।
বিশ্বকাপের আগে একটি সিরিজে খারাপ করলেই বিসিবি প্রধানের কড়া সুর শুনতে হতো ক্রিকেটারদের। দলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন তুলতেন। দল নির্বাচন, টস সব বিষয়েই নজর ছিল পাপনের। তবে বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে মাহমুদউল্লাহ, সাকিব ও মুশফিকদের টানা পাল্টা জবাবের পর আড়ালে চলে যান তিনি। মূলপর্বে টানা হারলেও কোনো কিছু বলেননি। পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও মুখ বন্ধ রেখেছিলেন। গতকাল মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন সুর পাল্টে খেলোয়াড়দের পক্ষে কথা বললেন। দোষটা দিলেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে। বাংলাদেশ দলে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাসহ চার সিনিয়র ক্রিকেটারের অবদান স্মরণ করে পাপন বলেন, ‘ওদের নিয়ে একটা সিরিজে খারাপ করায় যা বলা হয় এটা কি ঠিক? অকল্পনীয়, মানে আমার বিশ্বাসই হয় না। এই যে বাবর আজম এই টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভালো করেনি, প্রথম টেস্টে ভালো করেনি। কিন্তু ওকে নিয়ে কি সমালোচনা হয়েছে? কোনো কিছু লেখা হয়নি। তাহলে কেন আমাদের ক্রিকেটারদের বেলায় এমন করা হয়। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটা মিডিয়া করে না, করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এটা এখন ক্রিকেটারদের জন্য বিরাট চাপ হয়ে যাচ্ছে। এই ক্রিকেটারদের নিয়ে কিছু বলার প্রশ্নই ওঠে না।’
বিশ্বকাপের পরপর বাজে পারফরম্যান্সের কারণ বের করতে কমিটি করে বিসিবি। সেই কমিটি কাজ করেছে এতদিন। তবে কোনো ফলপ্রসূ কারণ আসেনি। পাপন জানেন এভাবে কোনো ফল আসবে না। অ-প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কমিটির সদস্য জালাল আহমেদ চৌধুরীকে জিজ্ঞাস করে কিছু সমস্যা পেয়েছেন কিন্তু তা কোচ সংক্রান্ত না। অপেক্ষা করছেন এই কমিটির চূড়ান্ত রিপোর্টের জন্য। তাই বিশ্বকাপ ব্যর্থতার কারণ প্রকাশ হওয়াও পিছিয়েই গেল। তবে নিউজিল্যান্ডে টেস্ট চলাকালীন ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলাদা করে বসবেন বলে জানান পাপন। টি-টোয়েন্টি দলের অনেক ক্রিকেটার টেস্ট খেলতে যাচ্ছেন না। তাদের নিয়ে বসে বিশ্বকাপ ব্যর্থতার ভেতরের কারণ খোঁজার চেষ্টা করবেন বিসিবি প্রধান।
তবে বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর পাকিস্তানের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি সিরিজে দলের প্রশংসা করলেন পাপন। ক্রিকেটারদেরও প্রশংসা করেছেন। এই দল নিয়ে দুটো ম্যাচ জেতার পরিস্থিতি তৈরি করায় তিনি খুশি। সংবাদ মাধ্যমকে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়লেন এই দলের প্রশংসা না করায়।
কোচ রাসেল ডমিঙ্গো, প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীনদের দায়িত্বে থাকা কিংবা না থাকা সহ আরও বেশকিছু সিদ্ধান্ত জানুয়ারিতে চূড়ান্ত করা হবে বলে জানালেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান।
