দু’স্ত্রীকে নির্যাতন করে ভাগিয়ে দিয়ে কলেজছাত্রীকে নিয়ে উধাও যুবক!

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮:৩৩ পিএম

রংপুরের পীরগঞ্জে দু’স্ত্রীকে রেখে এক কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীকে নিয়ে পালিয়েছেন রাশেদুল ইসলাম ইমন (৩২) নামে এক যুবক। তিনি উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের বড় ফলিয়া গ্রামের। তার দু’স্ত্রী ছাড়াও দুই ছেলে রয়েছে। 

এ ঘটনায় রাশেদুল ইসলাম ইমনের বিরুদ্ধে তার ২য় স্ত্রী ও কলেজছাত্রীর বাবা পীরগঞ্জ থানায় পৃথক পৃথক দু’টি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

সোমবার সকালে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী দেশ রূপান্তরকে জানায়, রাশেদুল ইসলাম ইমন নিজকে পুলিশের সোর্স দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা অপকর্ম করে আসছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোসহ নানা ভয়-ভীতি দেখাতো। সে প্রায় বছর পাঁচেক পূর্বে বরিশালে আছমা বেগম নামে এক তরুণীকে প্রথম বিয়ে করে। বিয়ের ৩ বছর যেতেই এক পুত্র সন্তানসহ নির্যাতন চালিয়ে প্রথম স্ত্রীকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়।

তাদের অভিযোগ, এরপর রাশেদুল ইসলাম ইমন প্রতিবন্ধী ষোড়শীকে দুবছর আগে ধর্ষণ করে। বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রামের লোকজন উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে দেয়। বিয়ের পর থেকেই অবর্ণনীয় শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। দ্বিতীয় স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হলে সন্তান নষ্টের জন্য তাকে চাপ দেয়। এতে রাজি না হলে রাশেদুল নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। একপর্যায়ে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে দ্বিতীয় স্ত্রী তার অসহায় বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। প্রায় দেড় মাস আগে তার দ্বিতীয় স্ত্রী একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্ম দয়ে। 

দ্বিতীয় স্ত্রী দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা গরীব মানুষ। টাকা-পয়সার অভাবে মামলায় যেতে পারছি না। তবে পীরগঞ্জ থানায় গত ১৭ ডিসেম্বর রাশেদুলের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করেছি। 

তার আরো অভিযোগ, গত শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) গভীর রাতে সবার অজান্তে রাশেদুল কলেজছাত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যায়।

ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান।

এ ব্যাপারে সাব-ইনসপেক্টর জামিউল ইসলাম দুটি অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি অদ্যই অভিযোগ দুটি তদন্তে যাব। 

রাশেদুল পুলিশের সোর্স কি না, এ প্রশ্নের উত্তর তিনি দেননি। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত