হবিগঞ্জে বিএনপির সমাবেশে পুলিশের গুলি-সংঘর্ষ, আহত ২০

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:২৯ পিএম

হবিগঞ্জে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার বিদেশ চিকিৎসার দাবিতে আয়োজিত সমাবেশ নিয়ে পুলিশ ও বিএনপি নেতা কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় ৪ পুলিশসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হন।

বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে হবিগঞ্জের শায়েস্তানগর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান সিতু জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ রাজিব আহমদ রিংগনের অবস্থা গুরুতর। রিংগনকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, বুধবার সকাল থেকেই পুলিশ শহরে শায়েস্তানগর এলাকায় কেন্দ্রীয় বিএনপি সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ও  জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জিকে গউসের বাসার সামনের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। এ ছাড়া সমাবেশের জন্য মঞ্চ তৈরি করতে দেয়নি পুলিশ।  বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের  নেতা কর্মীরা সমাবেশ এলাকায় যেতে চাইলে তারা পুলিশের বাধার মুখে পড়েন।

দুপুর দেড়টার দিকে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে সমাবেশস্থলে যাওয়ার চেষ্টা নিয়ে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। একপর্যায়ে শুরু হয় সংঘর্ষ। উভয় পক্ষই একে অপরের উদ্দেশ্যে ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ও শটগানের গুলি ছোড়ে। এ সময় ওই এলাকায় যান চলাচল ও দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। বাসাবাড়িতে আতঙ্ক দেখা দেয়।

আরও জানা গেছে, নেতা কর্মীদের তোপের মুখে কিছু সময়ের জন্য পুলিশ পিছু হটতে বাধ্য হয়। পরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। এক দিকে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া অন্যদিকে সমবেত নেতা কর্মীদের উপস্থিতিতে ওই অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশারফ হোসেন, সাবেক চিফ হুইপ জয়নাল আবেদীন ফারুক, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার সিপা, যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম নিরব, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল ও স্থানীয় নেতা কর্মীরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে সমাবেশ শেষ করেন। বিকেল সোয়া চারটায় এ রিপোর্ট লেখার সময় বিপুলসংখ্যক পুলিশ শায়েস্তানগর এলাকা প্রধান সড়ক ও আশপাশ এলাকায় ঘিরে রেখেছিল।

জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও হবিগঞ্জ পৌরমেয়র জিকে গউস জানান, আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশের বাধা দেয়া উচিত হয়নি। তারা সমাবেশ ভন্ডুল করতে অনেক নেতা কর্মীদের পিটিয়েছে। যা অগণতান্ত্রিক ও ন্যক্কারজনক।

জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম ফরিদ জানান, পুলিশের গুলিতে ছাত্রদল নেতা রিংগনসহ অনেকেই আহত হয়েছেন।    

হবিগঞ্জ মডেল থানার ওসি মাসুক আলী সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় ৬-৭ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। কত রাউন্ড টিয়ার গ্যাস ও শটগানের গুলি ছোড়া হয়েছে তা জানাতে পারেননি তিনি।  

হবিগঞ্জ হাসপাতালের আরএমও মঈন উদ্দিন চৌধুরী জানান, ৪ জন পুলিশ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ছাড়া কেউ চিকিৎসা নিতে আসেননি।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত