৬ ‘মুক্তিযুদ্ধে নদীর ভূমিকা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তারা

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বাঁচাতে হলে নদী বাঁচাতে হবে

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:০২ এএম

মুক্তিযুদ্ধের সময় নদী আমাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ ছিল। নদী আমাদের সহায়তা দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। তাই নদী আমাদের নিয়ামক। নদীর ক্ষতি কোনো বাঙালি করতে পারে না। নদী বাঁচলে স্বাধীন বাংলাদেশ বাঁচবে। নদী মরে গেলে মানুষ বাঁচার কোনো সুযোগ থাকবে না। দেশের ইতিহাস রক্ষা ও মানুষের স্বার্থে নদীকে রক্ষা করতে হবে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ‘মুক্তিযুদ্ধে নদীর ভূমিকা’ শীর্ষক পঞ্চম নদী কথন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বক্তারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার বালু নদীর পাড়ে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া এলাকায় ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্কের (বেন) অস্ট্রেলিয়ার সমন্বয়ক মুক্তিযোদ্ধা কামরুল আহসান খান বলেন, ‘পাকিস্তানিরা যখন আমাদের আক্রমণ করে তখন আমরা নদীকে ব্যবহার করেছি। নদী ভরাট করে আমরা উন্নয়ন চাই না। আমরা নদী রক্ষার আন্দোলনে আছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে নদীকে রক্ষা করতেই হবে।’

ওয়াটারকিপার্সের সমন্বয়ক শরীফ জামিল বলেন, ‘একটা দেশের সম্পদ হলো নদী আর আমরা সেই নদীকেই ধ্বংস করে ফেলছি। পরিকল্পনা যাই হোক নদীপাড়ের মানুষকে যুক্ত করতে হবে। বাঁচিয়ে রাখতে হবে আমাদের নদীগুলোকে।’

রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকে যে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল তা ছিল মূলত নদী দ্বারা বিভক্ত। ১০ নম্বর সেক্টর ছিল সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর আর নৌপথকে কেন্দ্র করে। যুদ্ধে সফলতা আসতে শুরু করে নৌকমান্ডো যখন অপারেশন শুরু করে। নদীভিত্তিক ৫১০টি অপারেশন সম্পন্ন হয়েছিল, এর মধ্যে ৭৮টি হয়েছিল নৌকমান্ডোদের, ১৯৯টি রেলসেতুর ওপর আর ২৩১টি নদীর ওপর ব্রিজ অপারেশন সম্পন্ন হয়েছিল।’লেখক ও সাংবাদিক ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘সারা দেশে জালের মতো বিছিয়ে আছে আমাদের নদীগুলো। তাই মুক্তিযুদ্ধে আমাদের সেøাগান ছিল তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা।’

স্থানীয় নারীনেত্রী জান্নাতী আক্তার রুমা বলেন, ‘নদীতে মিঠাপানি ছিল আর পানি ছিল স্বচ্ছ। আমরা এই বালু নদীর পানি খেতাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত দখল-দূষণ রোধ করা সম্ভব হয়নি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত