মাঝনদীতে লঞ্চে আগুন

একে অপরে জড়িয়ে ধরে মৃত্যু, শায়িত হলেন একই কবরে

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:৫৯ পিএম

একটি শিশুকে জড়িয়ে ধরে আছেন এক নারী। সেই অবস্থাতেই লঞ্চ অগ্নিকাণ্ডে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন তিনি। তবুও আদরের ধন সন্তানটিকে একবারের জন্য বিচ্ছিন্ন হতে দেননি তিনি। ঝালকাঠী জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে বরগুনা জেলা প্রশাসনের কাছে সেভাবেই হস্তান্তর করা হয়েছিল তাদের। আর সেই অবস্থাতেই শনিবার চির নিদ্রায় শায়িত হলেন দুজনে একই কবরে।

এখনো তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তারা দুজনেই মা ও সন্তান। দৃশ্যটি দেখে অনেকেই চোখের জল ফেলেছেন। কেঁদেছেন দাফনের দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবীরা।

শনিবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে পোটকাখালী গণকবরে অজ্ঞাতদের  দাফন করা হয়। এখানের প্রথম কবরটিতেই মা ও মেয়ের অজ্ঞাত লাশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে তাদের। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাশের কফিনের ওপরে লেখা হয়েছে মা ও মেয়ের লাশ।

গণকবরে লাশ দাফন দেখতে আসা মোস্তাফিজ নামের এক যুবক বলেন, এমন করুণ পরিস্থিতি কখনোই দেখিনি এক কবরে মা ও মেয়েকে দাফন দেওয়া। জীবনের প্রথম এই করুণ বিভীষিকাময় সময়ের সাক্ষী হয়ে রইলাম। এমন মৃত্যু যেন আমার শত্রুর না হয়।

সোহেল রানা নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, একবার সিডরের সময় মুরুব্বিদের মুখে শুনেছিলাম এক কবরে অনেককে দাফন দেওয়া হয়েছিল। আজ নিজের চোখে মা ও মেয়েকে এক কবরে শায়িত হতে দেখলাম। এটা মানব হৃদয়ে যে দাগ ফেলেছে হয়তো কোনো দিনও ভোলা সম্ভব নয়।

লাশ দাফনের কাজে নিয়োজিত বরগুনা রেডক্রিসেন্ট ইউনিটের সদস্য মুসা বলেন, যাদের লাশ দাফন হয়েছে তাদের পরিচয় জানি না কিন্তু এটা অনুমান করতে পেরেছি নিজের সন্তানকে বাঁচাতে এক মা কীভাবে অঙ্গার হয়েছে। যেভাবে জড়িয়ে ধরে নিজের মেয়েকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল আমরা সেভাবেই এই দুজনকে দাফন করেছি।

ঝালকাঠি জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে লাশ বুঝে পাওয়ার পরপরই নিখোঁজদের খুঁজে পেতে বরগুনা জেলা প্রশাসন মাইকিং করলেও তাদের সন্ধানে কেউ আসেনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। তাই বাধ্য হয়েই অজ্ঞাত পরিচয় লাশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে তাদের।

বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, মা ও মেয়েকে জড়ানো অবস্থায় লাশ দুটি পাওয়া যায় বলে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসন জানিয়েছেন। আমাদেরও এমনটি ধারণা যে ওই লাশের কফিনে রাখা মা ও শিশু মেয়ের লাশ। যেহেতু তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়নি তাই এক কবরেই দাফন করা হয়েছে। তাদের নমুনা সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে সঠিক তথ্য জানা যাবে বলেও তিনি জানান।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত