হিলিতে ধানের দাম বেশি

লোকসানের শঙ্কায় গুদামে চাল দিচ্ছেন না মিলমালিকরা

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:১৩ এএম

চলতি আমন মৌসুমে ধানের দাম বেশি হওয়ায় চাল উৎপাদনে পড়তা না পড়ায় দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহে আগ্রহ নেই মিলারদের। চাল সরবরাহে চুক্তিবদ্ধ হলেও সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধনের দেড়মাসের বেশি সময়  পেরিয়ে গেলেও মাত্র ৭০ টন চাল সংগ্রহ করতে পেরেছে খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ। অধিকাংশ মিলমালিক চাল সরবরাহে আগ্রহ না থাকায় চাল সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

হিলির শিরিন হাসকিং মিলের স্বত্বাধিকারী সামসুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বাজারে মোটা ধানের দাম রয়েছে সাড়ে ৯শ থেকে ১ হাজার টাকা করে। তাতে করে আড়তদারদের কাছ থেকে আমাদের ধান কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ২০ টাকা করে। এর সঙ্গে মণপ্রতি ১৫ টাকা রয়েছে পরিবহন খরচ। এরপর প্রতিমণ ধান সেদ্ধ ও শুকাতে ২৫ টাকা করে দিতে হবে শ্রমিকদের, ১০ টাকা করে দিতে হবে ভাঙানো বাবদ। মণপ্রতি মিস্ত্রিকে দিতে হবে ৬ টাকা করে। মণপ্রতি বিদ্যুৎ বিল আসে ২০ টাকা। এগুলোর সঙ্গে আনুষঙ্গিক অন্যান্য খরচ মিলিয়ে আমাদের প্রতিমণ ধানে বাড়তি খরচ হয় ৭০ টাকার বেশি।

তিনি বলেন, সরকার যে ময়েশ্চারসহ অন্য কিছু হিসাব করে ধান ক্রয় করে তাতে আমাদের একমণ ধানে ২৮ কেজি চাল নামবে। কিন্তু আমরা বর্তমানে বাজার থেকে যে হিসাবে ধান ক্রয় করি তাতে করে আমাদের একমণ ধানে সর্বোচ্চ ২৭ কেজি করে চাল নামবে। সব খরচ মিলিয়ে আমাদের এককেজি চালের উৎপাদন খরচ পড়ে ৪০ টাকা ৯২ পয়সা বা ৪১ টাকা। এর সঙ্গে ওজন, শ্রমিক পরিবহন মিলিয়ে ৪২ টাকার মতো পড়তা পড়ে। কিন্তু সরকার এবারে চালের মূল্য নির্ধারণ করেছে ৪০ টাকা কেজি। তাতে করে সেই মূল্যে চাল দিতে হলে লোকসান গুনতে হবে মিলারদের।

সামসুল ইসলাম আরও বলেন, যেহেতু চুক্তিবদ্ধ হয়েছি, তাই লোকসান হলেও লাইসেন্স বাঁচাতে খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহ করবে আমার মতো অনেকেই। তবে সবাই ধানের দাম একটু কমার অপেক্ষায় রয়েছে, দাম কমলেই ধান কিনে চাল করে গুদামে সরবরাহ করা হবে। ধানের বাজারমূল্য হিসাব করে চালের মূল্য নির্ধারণ করলে আমাদের জন্য ভালো হতো।

হিলি এলএসডি খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা জোসেফ হাসদা বলেন, চলতি মৌসুমে মিলারদের কাছ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে ২০১ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ৭ নভেম্বর সারা দেশের মতো হিলি খাদ্যগুদামে আনুষ্ঠানিকভাবে চাল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করা হয়। এখন পর্যন্ত ৭ জন মিলার ৭০ টনের মতো চাল সরবরাহ করেছেন, অন্যরা এখনো চাল সরবরাহ করেননি।

হাকিমপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চাল সরবরাহের জন্য উপজেলার ২৩ জন মিলারের মধ্যে ২২ জন চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। তবে সেভাবে মিলাররা এখনো চাল দেওয়া শুরু করেননি। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলে সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত