মমতার টুইটের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি

কেন্দ্র নয়, মাদার তেরেসার সংস্থাই লেনদেন স্থগিত রেখেছে

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:৫৮ পিএম

মাদার তেরেসা প্রতিষ্ঠিত মিশনারিজ অব চ্যারিটির ব্যাংক হিসাব বন্ধের কোনো নির্দেশ ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া হয়নি। 

বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ অনেকেই বিরূপ সমালোচনার পর সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ কথা জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টই সরকার বন্ধ করেনি। বরং, ‘মিশনারিজ অব চ্যারিটি’ স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার কাছে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার আরজি জানায়।

তবে, ভারতীয় গণমাধ্যম জানায়, কিছু শর্ত পূরণ না হওয়াতে সাহায্য হিসেবে বিদেশি মুদ্রা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় কেন্দ্রীয় অনুমোদন দেওয়া হয়নি ‘মিশনারিজ অব চ্যারিটিকে’।

মাদার তেরেসা প্রতিষ্ঠিত মিশনারিজ অব চ্যারিটির ব্যাংক হিসাব বন্ধের খবর ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় সমালোচনা করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিস্ময় প্রকাশ করেন।

খবরের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার জন্য কলকাতায় মাদার হাউজের সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকা যোগাযোগ করলে এ বিষয়ে প্রথমে কোনো মন্তব্য করতে চায়নি প্রতিষ্ঠানটি। পরে মাদার হাউস জানায়, কেন্দ্র থেকে মিশনারিজ অব চ্যারিটির কোনো ব্যাংক হিসাব বন্ধ করা হয়নি। বরং, সংস্থার পক্ষ থেকেই সব শাখাকে বিদেশি মুদ্রা সংক্রান্ত লেনদেন বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, কেন্দ্র থেকে মিশনারিজ অব চ্যারিটির কোনো ব্যাংক হিসাব বন্ধের নির্দেশ দেয়া না হলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিদেশি মুদ্রা লেনদেন সংক্রান্ত ছাড়পত্র দেয়নি সংস্থাটিকে। গত ২৫ ডিসেম্বর সেই ছাড়পত্রের পুনর্নবিকরণ স্থগিত রেখেছে সরকার। আর সে কারণেই আপাতত কোনও রকম বিদেশি মুদ্রার লেনদেন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থা।

প্রসঙ্গত, সোমবার দুপুরে মিশনারিজ অব চ্যারিটির সব ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। এতে বলা হয়, ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে দেয়াতে কোনও রকম আর্থিক লেনদেন করতে পারছে না সংস্থাটি।

যদিও প্রথম থেকেই এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি কলকাতার মাদার হাউস কর্তৃপক্ষ। তবে এই খবর সামনে আসার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বিস্ময় প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি টুইটার পোস্টে লেখেন, ‘বড়দিনের উৎসবের মধ্যে মাদার তেরেসার মিশনারিজ অব চ্যারিটির সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কেন্দ্রীয় সরকার বন্ধ করে দিয়েছে শুনে আমি বিস্মিত।’

মমতা টুইটারে আরও লিখেছেন, ‘মিশনারিজ অব চ্যারিটির ২২ হাজার রোগী এবং কর্মীরা খাবার এবং ওষুধ পাচ্ছেন না। আইন সবার উপরে হলেও মানবিক কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যাওয়া ঠিক নয়।’

বিভিন্ন মহলের মহলের সমালোচনার মধ্যে অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও বিবৃতি জারি করে বলা হয়, ‘মিশনারিজ অফ চ্যারিটির কোনও অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, মিশনারিজ অফ চ্যারিটি নিজেদের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আরজি জানিয়েছিল।’

এদিকে, কেন্দ্র থেকে ঘটনার ব্যাখ্যা দেয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, এই ঘটনা থেকে প্রমাণিত যে, ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি করছে তৃণমূল।

উল্লেখ্য, হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, সপ্তাহদুয়েক আগে গুজরাটের ভদোদরায় মিশনারিজ অফ চ্যারিটির শাখায় জোর করে হিন্দু তরুণীদের ধর্মান্তরকরণ ও হিন্দু ভাবাবেগে আঘাত দেয়ার অভিযোগ করা হয় শহরের মকরপুরা থানায়। গুজরাত পুলিশ অভিযোগের তদন্ত করছে।

তবে, মিশনারিজ অফ চ্যারিটি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, কাউকে কিছু করতে বাধ্য করা হয়নি। সন্ন্যাসিনীদের অনুসরণ করে নিজে থেকেই খ্রিষ্ট রীতি মানা শুরু করেছিলেন কিছু নারী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত