মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার যুক্তিতর্কের প্রথম দিন শেষ হয়েছে। রবিবার সকাল সোয়া ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে মামলাটির যুক্তিতর্ক চলে।
আদালত থেকে বেরিয়ে সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম জানান, ‘মেজর সিনহা হত্যা মামলার অভিযুক্ত আসামি টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ তথ্য গোপন করে সম্পূর্ণ প্রতারণার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার হাতিয়ে নিয়েছে।’
ফরিদুল আলম আরও জানান, ‘কোনো পুলিশ কর্মকর্তা পুলিশের সর্বোচ্চ পদক ‘বিপিএম, পিপিএম’ পেতে হলে ওই কর্মকর্তার নিম্ন থেকে চাকরিতে অবস্থান থাকার সময় পর্যন্ত বিভিন্ন অপরাধ ও দুর্নীতি নিয়ে সর্বোচ্চ তদন্ত করতে হয়। কিন্তু, ওসি প্রদীপ টেকনাফ থানায় এসআই থাকাকালীন সময়ে একটি মামলায় ২০০১ সালে দোষী সাব্যস্ত হয়। তেমনিভাবে মহেশখালীতে একটি হত্যা ও চট্টগ্রামে বিভিন্ন অপরাধে মামলার আসামি ছিল। কিন্তু, সেই তথ্য গোপন করে রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এ জন্য আমি আদালতে সাবেক ওসি প্রদীপের কাগজ-পত্রাদি যাচাই-বাছায় করে যাবতীয় রাষ্ট্রীয় পুরস্কার ও পদক বাতিলের জন্য মৌখিকভাবে আবেদন করেছি।
এক প্রশ্নের জবাবে ফরিদ আরও জানান, ‘থানার জিডি প্রমাণ করে সিনহা হত্যাকাণ্ডে প্রদীপরা জড়িত। কারণ, কোনো ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোনো অপারেশনে বের হওয়ার সময় থানায় যে জিডি করতে হয়, ঘটনার দিন করা ৬৭৭ নম্বর জিডিতে হত্যাকাণ্ডে তার উপস্থিতি প্রমাণ করে। সুতরাং ওসি প্রদীপ ও লিয়াকত গ্যাংরা মেজর সিনহাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।’
অপরদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী রানা দাশগুপ্ত জানান, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা তিনজন সাক্ষী ও আসামিদের জেরা ও সাক্ষ্য প্রমাণে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এর আগে সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলমের যুক্তিতর্কের মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়।
এদিন সকাল নয়টার দিকে উক্ত মামলার আসামি ওসি প্রদীপসহ এ মামলার ১৫ জনকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম জানান, সর্বশেষ ৮ দফায় গত ৭ ডিসেম্বর ৮৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন, জেরা শেষ হয়েছে। মোট ৬৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং জেরা সম্পন্ন হওয়ার পর কার্যবিধি ৩৪২ ধারায় আসামিদের বক্তব্য গ্রহণ করেছিল আদালত। একই সঙ্গে আজ ৯ জানুয়ারি রবিবার থেকে আগামী ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত যুক্তিতর্কের জন্য দিনধার্য্য করেছিল আদালত।
উল্লেখ্য, গত বছর ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।
