টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এক গৃহবধূকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে লুৎফুর রহমান (৪০) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব- ১২ এর সদস্যরা।
সোমবার সন্ধ্যা সাতটায় র্যাব-১২, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল এর কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার লুৎফুর রহমান উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের চিতেশ্বরী গ্রামের মো. মঈনুল হকের ছেলে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার সকালে ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলা নথিভুক্ত করে গ্রেপ্তারকৃত লুৎফুর রহমানকে আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, লুৎফুর রহমান জেলার সখিপুর উপজেলা সদরে একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। তিনি এবং ওই গৃহবধূ পাশাপাশি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাদের মধ্যে গড়ে ওঠা প্রেমের সম্পর্ক একসময় শারীরিক সম্পর্কে রূপ নেয়।
এই সুযোগ নিয়ে লুৎফুর রহমান বিভিন্ন সময় ওই গৃহবধূর অশ্লীল ছবি ও ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। এই ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ভাইরালের ভয় দেখিয়ে কয়েক দফায় লুৎফুর ওই গৃহবধূর কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা ও ১৫ ভরি স্বর্ণ হাতিয়ে নেয়।
এরপরও বিভিন্ন সময় তিনি ওই গৃহবধূকে মানসিক চাপে রাখা এবং ফোন করে বিভিন্ন স্থানে দেখা করতে বলেন। কথা না শুনলে মোবাইলে ধারণকৃত অশ্লীল ভিডিও ও ছবি ফেসবুকে ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিতেন। নিরুপায় হয়ে ওই গৃহবধূ টাঙ্গাইল র্যাব অফিসে অভিযোগ করেন।
ওই অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় র্যাব- ১২ সদস্যরা উপজেলার পাকুল্যা এলাকায় অভিযান চালিয়ে লুৎফুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেন। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল, একটি ল্যাপটপ, একটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার সকালে র্যাব-১২, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল এর কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন। লুৎফুর রহমানকে মির্জাপুর থানায় হস্তান্তর করে।
মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে মামলা করেছেন। লুৎফুর রহমানকে আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
