টাঙ্গাইলের সখীপুরে ঘরোয়া সালিশি বৈঠক শেষে সোমা আক্তার (১৯) নামের এক গৃহবধূর আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বোয়ালী পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার ভোর রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। সোমা একই এলাকার এরশাদ মিয়ার স্ত্রী।
আত্মহত্যা নয় আগুন দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মেয়ের মা পারভীন আক্তার। এ ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ করেনি বলে জানায় পুলিশ।
এলাকাবাসী জানায়, পারিবারিক বনাবনি না হওয়ায় গত শনিবার দুপুরে এরশাদের বাড়িতে একটি সালিশি বৈঠক হয়। তার কিছুক্ষণ পর বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে সোমা নিজেই শরীরে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এ ঘটনার চার দিন পর চিকিৎসারত অবস্থায় তিনি মারা যান।
ওই এলাকার স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম জানায়, মেয়েটা নিজেই শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। আমি তখন ওই বাড়ির রান্না ঘরের পাশে ছিলাম।
সালিশি বৈঠকের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন আমি ঢাকায় যাচ্ছি। সন্ধ্যায় সব বলব বলে ফোন কেটে দেয়।
মেয়ের মা পারভীন আক্তার বলেন, আমার মেয়েকে আগুন দিয়ে পোড়ার সময় মেয়ে কাইন্দ্যা কাইন্দ্যা কইছে আমারে বাঁচাও, কেউ এক কলসি পানি নিয়ে আসো। কিন্তু কেউ পানি নিয়ে এগিয়ে আসে নাই। এর আগেও আমার মেয়েকে লোহার প্যারাক (রড) দিয়ে শ্যাক দিতো। কত কইছি তোরে নিয়া যামুগা, আমার ম্যায়ায় (মেয়ে) কইছে একটা বচ্ছা হইছে আমি এখান থেকে যামু না। কিন্তু পাশান স্বামী, শ্বশুর মিলে আমার মেয়েকে আগুন ধরিয়ে পুইড়া মারছে। আমি এর বিচার চাই।
মেয়ের মা পারভীন আক্তার আরও জানায়, প্রায় চার বছর আগে মির্জাপুর উপজেলার গয়রামপুর গ্রামের নইমুদ্দিনের মেয়ে সোমা আক্তারের সঙ্গে সখীপুর উপজেলার বোয়ালী পশ্চিমপাড়া এলাকার সোমেশ আলীর ছেলে এরশাদ মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয়। এর আগেও এরশাদ একটি বিয়ে করেছিলেন। আর এ ঘটনা আমরা বিয়ে পরে জানি। সেই ঘরে একটি ১৫ বছরের মেয়ে আছে। সেই সংসার নিয়েও মামলা চলছে।
সখীপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একে সাইদুল হক ভূ্ইঁয়া বলেন, আগুনে পুড়ে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে বলে শুনেছি কিন্তু কেউ লিখিত ভাবে অভিযোগ করেনি।
