ট্রান্সজেন্ডার বিউটি ব্লগারকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২২, ০৪:৫৬ পিএম

ট্রান্সজেন্ডার বিউটি ব্লগার সাদ মুআকে যৌন নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ইশতিয়াক আমিন ফুয়াদ ও সহযোগী নারী আরজেসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

রবিবার র‌্যাব এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, রাজধানীর ফার্মগেট ও মহাখালী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব জানিয়েছে, আটককৃতরা একটি চক্র হিসাবে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিতো।

এর আগে গত শুক্রবার যৌন নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে রাজধানীর ভাটারা থানায় একটি মামলা করেন সাদ মুআ।  

বিউটি ব্লগার সাদ বিন রাবী ওরফে সাদ মুআ অভিযোগ করেছেন, ট্রান্সজেন্ডার হওয়ার কারণেই তিনি এইরকম হামলার শিকার হয়েছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, কিছুদিন আগে সামাজিক মাধ্যমে একজনের সঙ্গে সাদ মুআর পরিচয় হয়। ১০ই জানুয়ারি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় বসে খাবার খাচ্ছিলাম। সেই সময় তিনি ফোন করে দেখা করতে চান। তাকে আমি সেখানে আসতে বলি। তিনি কিছুক্ষণ পরে ফোন দিয়ে বলেন, রেস্তোরাঁর ভেতরে আসতে চান না, আমাকে বাইরে আসতে বলেন। পরে বাইরে গিয়ে তার সঙ্গে কথা হয়।

সেই সময় ওই ব্যক্তি 'তার বাসা কাছেই' এবং 'সাদ মুআ সেলেব্রিটি হওয়ায় তাকে বাসায় নিয়ে স্ত্রীকে সারপ্রাইজ দিতে চান' জানিয়ে তাকে বাসায় যাওয়ার অনুরোধ করেন। তারপর সাদ মুআ ওই বাসায় যান।

সাদ মুআ বলেন, বাসায় গিয়ে একটি রুমে বসার পরেই একজন নারী ও পুরুষ এসে ভিডিও করতে শুরু করে আর নানা প্রশ্ন করতে থাকে। তারা আমার জেন্ডার নিয়েও খারাপ খারাপ কথা বলতে থাকে। আমি নাকি সেখানে অনৈতিক কাজ করতে গিয়েছি, এসব কথা বলে।' তারা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোক বলে পরিচয় দেয়। তাদের সঙ্গে অস্ত্র, ওয়াকিটকিও ছিল। তারা বলে, আমি যদি তাদের কথা না শুনি বা টাকাপয়সা না দেই, তাহলে আমাকে মেরে ফেলবে। বাইরে নাকি তাদের আরও পাঁচজন লোক দাঁড়িয়ে আছে। তারা আমাকে বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি করে। কাপড়চোপড় খুলে ভিডিও বানায়। আমাকে মারধর করে। জীবন বাঁচাতে ওরা যা বলতে বলে, আমি সেটাই বলি। ওরা সেটা ভিডিও করে।

সেই সময় তার কাছে এক লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। এরপর তার মোবাইল ফোন, চেইন, বিকাশের টাকা নিয়ে নেয় ওই ব্যক্তিরা। এরপর তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হবে বলে গাড়িতে তোলা হয়। রামপুরার দিকে একটি খাবারের দোকানে তাকে বসিয়ে তারা চলে যায়, অভিযোগ সাদ মুআর।

সাদ মুআ'র ওপর যৌন নির্যাতন ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে মামলার পরেই এই বিষয়ে র‍্যাব তদন্ত শুরু করে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলছেন, মামলার পরেই আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত করতে শুরু করি। এরপর ঢাকার ফার্মগেট ও মহাখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে শনিবার সকালে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদের মধ্যে একজন পুরুষ সদস্য নিজেকে সেনা অফিসার ও আরেকজন নারী সদস্য নিজেকে আরজে এবং পুলিশ কর্মকর্তা বলে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করতো, দাবি র‍্যাবের।

র‍্যাবের কর্মকর্তারা বলছেন, এই চক্রটি এর আগেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম-পরিচয় ভাঙ্গিয়ে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। তিনজনের মধ্যে দুইজনের নামে আগের মামলা রয়েছে। তাদের কাছ থেকে ওয়াকিটকি সেটও উদ্ধার করা হয়েছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত