শাবিপ্রবিতে তৃতীয় পক্ষের ইন্ধনের অভিযোগ নাকচ করেছেন আন্দোলনকারীরা

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:০৫ পিএম

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষের ইন্ধনের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

সোমবার শাবিপ্রবিতে চলমান আন্দোলনের অষ্টম দিনে শিক্ষার্থীরা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নাকচ করে প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ প্রবেশদ্বারগুলোতে বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও সংবাদকর্মী ছাড়া বহিরাগত কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। পরিচয় যাচাই করে ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, আন্দোলনকারীরা বহিরাগত এবং আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন আছে বলে যে অভিযোগ তাঁদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, তা মিথ্যা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘স্বৈরাচারী উপাচার্যের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের বাঁধন ছিন্ন হয়েছে। তাই আমরা আর তাঁকে আর চাই না। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে আমরা আন্দোলন করছি। এখানে তৃতীয় পক্ষের ইন্ধনের অভিযোগ অযৌক্তিক।’

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষে মোহাইমিনুল বাশার বলেন, ‘আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এখানে বহিরাগতদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তাই আমরা সবার পরিচয় যাচাই করে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের সুযোগ দিচ্ছি।’

এই আন্দোলনকে অহিংস হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের অনশন যখন ১০০ ঘণ্টায় যায়, তখন বাধ্য হয়েই আমরা উপাচার্যের বাসভবনের বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিই। আমাদের আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। দীর্ঘ অনশনে আমাদের সহপাঠীদের শারীরিক অবস্থা যখন ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে, তখন এমন প্রশ্ন খুবই বেদনাদায়ক।’

গত ১৩ জানুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী। ১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ছাত্রীদের আন্দোলনে হামলা চালায় ছাত্রলীগ। ১৬ জানুয়ারি শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। তখন পুলিশ শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে ও তাদের লক্ষ্য করে শটগানের গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। ওই দিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা তা উপেক্ষা করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। 

প্রসঙ্গত, সোমবার শাবিপ্রবিতে চলমান ছাত্র আন্দোলন নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে ঢাবি শিক্ষক সমিতি সোমবার এক বিবৃতিতে বলেছে, উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে শাবিপ্রবিতে আন্দোলনে তৃতীয় একটি পক্ষ ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত