ইভ্যালি সংশ্লিষ্টতায় সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত নিঝুম মজুমদারকে (গোলাম মারুফ মজুমদার) দুই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে হাজির হতে বলা হয়েছে। ইভ্যালির সাবেক বোর্ডের লিগ্যাল টিমের কো-অর্ডিনেটর দাবি করে ইউটিউবে বিভিন্ন ভিডিও আপলোড করেন তিনি।
এ ছাড়া ইভ্যালির সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও তার স্ত্রী কোম্পানিটির সাবেক চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন, তাদের সন্তান, ভাই-বোন, মা-বাবা, শ্বশুর-শাশুড়ির ব্যাংক (ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক) হিসাব কেন জব্দ করা হবে না তা জানতে চেয়েছে আদালত।
ইভ্যালি ব্যবস্থাপনায় আদালত কর্তৃক নিযুক্ত নতুন পরিচালনা পর্ষদের করা এক আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক কোম্পানি বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
ইভ্যালিতে পণ্য অর্ডার দিয়ে অর্থ পরিশোধের পর পণ্য ও অর্থ ফেরত না পেয়ে মো. ফরহাদ হোসেন নামের ইভ্যালির এক গ্রাহক গত সেপ্টেম্বরে হাইকোর্ট আবেদন করেন।
এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৮ অক্টোবর আদালত ইভ্যালি ব্যবস্থাপনায় পাঁচ সদস্যের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে দেয়।
ইভ্যালির সাতটি গাড়ি নিলামের প্রক্রিয়া পরিচালনাসহ কয়েকটি বিষয় নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ ওই আবেদন করে।
আদালতে ইভ্যালির পরিচালনা পর্ষদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোর্শেদ আহমেদ খান। গ্রাহকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ মাহসিব হোসেন।
পরে আদেশের বিষয়টি জানিয়ে আইনজীবী মোর্শেদ আহমেদ খান বলেন, ইভ্যালির সাবেক বোর্ডের লিগ্যাল টিমের কো-অর্ডিনেটর দাবি করে ইউটিউবে বিভিন্ন ভিডিও আপলোডকারী নিঝুম মজুমদারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সশরীর আদালতে উপস্থিত হতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এতে ব্যর্থ হলে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি ইভ্যালির সাতটি গাড়ির নিলাম পরিচালনা জন্য সুপ্রিম কোর্টের একজন ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে দায়িত্ব দিয়েছে হাইকোর্ট। এ কাজে একজন সহকারী রেজিস্ট্রার সহযোগিতা করবেন। র্যাবের মহাপরিচালক ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে নিলাম এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইভ্যালির পরিচালনা পর্ষদের এ আইনজীবী বলেন, রাসেল ও তার স্ত্রী, তাদের সন্তান ও মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্য এবং ইভ্যালির ভবন মালিকের ব্যাংক (ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক) হিসাবে কেন জব্দ করা হবে না, এ বিষয়ে হাইকোর্ট দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
