ওমিক্রন নিয়ে নতুন আতঙ্ক, আরও ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করতে পারে

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৩:১৪ পিএম

একদিকে কমছে ওমিক্রনের প্রকোপ। কিন্তু অন্য দিকে বাড়ছে এই জীবাণুটির নিজেকে বদলানোর হার। এমনটাই জানালেন গবেষকরা।

সম্প্রতি আমেরিকার পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ওমিক্রনের নিজেকে বদলে ফেলার অদ্ভুত এক ঘটনা টের পেয়েছেন। এত দিন মনে করা হত, মানুষ ছাড়া অন্য প্রাণীর দেহে সেভাবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সম্ভব নয়। কিন্তু এখন তাই হচ্ছে।

 

কী জানতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা?

কোভিড-১৯ ভাইরাসটি শুধুমাত্র মানুষের মধ্যেই মারাত্মকভাবে সংক্রমিত হতে পারে। এমনই বলেছিলেন বিজ্ঞানীরা। অন্য প্রাণীর মধ্যে অল্প পরিমাণে সংক্রমিত হলেও, সেটি মহামারির আকার ধারণ করতে পারবে না। এমনটি বলেছিলেন বিজ্ঞানীরা।

কিন্তু সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, ওমিক্রনকে এই তত্ত্বে আটকে রাখা যাচ্ছে না। ওমিক্রন এবার মানুষ ছাড়িয়ে অন্য প্রাণীর মধ্যেও মহামারির সৃষ্টি করছে। আমেরিকার বেশ কিছু প্রদেশে সাদা-লেজের হরিণের মধ্যে এই রোগের মারাত্মক বাড়াবাড়ি দেখা গেছে। প্রকৃতপক্ষে হরিণের এই বিশেষ জাতিটির ভেতর ইতিমধ্যেই অতিমারি সৃষ্টি করে ফেলেছে ওমিক্রন। এমন হরিণের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি। এসব হরিণ আবার মানুষের সংস্পর্শেও আসে।

নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, বিজ্ঞানীরা যখন ২০২০ সালে শিকারি বা গাড়ির চাপায় মারা যাওয়া হরিণের হিমায়িত নমুনাগুলো পরীক্ষা করেছিলেন, তখন তারা তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশকেই করোনভাইরাসে আক্রান্ত দেখতে পান।

পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির একজন মাইক্রোবায়োলজিস্ট এবং সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ বিবেক কাপুর এনওয়াইটিকে বলেন, ‘এটা খুবই আশ্চর্যজনক’। তার দল এখন পর্যন্ত ৪০০০টি মৃত হরিণের নমুনা বিশ্লেষণ করেছে এবং একটি মানচিত্রে প্রতিটি সংক্রামিত প্রাণীর অবস্থান চিহ্নিত করেছে। তিনি বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ পাগল করার মতো অবস্থা। মনে হচ্ছে ভাইরাসটা সব জায়গায় আছে’।

 

এতে মানুষের কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?

অনেকেই ভাবতে পারেন, হরিণের মধ্যে ওমিক্রন ছড়ালে মানুষের সমস্যা হবে কেন? কিন্তু পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক বিবেক কাপুর নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ওমিক্রন বা করোনার কোনও রূপ যদি অন্য প্রাণীর দেহে সংক্রমণ ঘটায়, তাহলে সেটি মানুষের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণটি হল- অন্য প্রাণীর দেহে যাওয়া মানেই সেখানে আবার নিজের রূপ বদলাবে ভাইরাসটি। অর্থাৎ সেখানে মিউটেশন হবে। তৈরি হবে নতুন রূপ। সেই নতুন রূপের করোনা যদি আবার মানুষের শরীরে ফিরে আসে, তাহলে সেটি কেমন সংক্রমণ ঘটাবে, তার কোনও পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়। সেটি ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ।

আপাতত বিষয়টির উপর নজর রাখছেন বিজ্ঞানীরা। হরিণের এই বিশেষ সম্প্রদায়টির মধ্যেও যেন বেশি ছড়াতে না পারে এই জীবাণু তেমন ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত বছরের আগস্টে প্রথম একটি হরিণের দেহে কোভিড-১৯ ধরা পড়ে। তবে এই নতুন আবিষ্কার প্রাণীদের থেকে করোনা মাহামারীর একটি নতুন তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়ার উদ্বেগকে বাড়িয়ে তুলেছে। মার্কিন কৃষি বিভাগ এর আগে কুকুর, বিড়াল, বাঘ, সিংহ, তুষার চিতা, ভোদড়, গরিলা এবং বেজি জাতীয় প্রাণী মিঙ্কের মধ্যে কোভিড-১৯ শনাক্ত করেছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত