রাজধানীর ধানমন্ডিতে জোড়া খুনের নেপথ্যে ছিলেন বিশ্বস্ত কর্মচারী মো. বাচ্চু মিয়া (৩৪)। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বাড়ির দেখভাল করতেন তিনি। অথচ সেই বাচ্চুই নতুন গৃহকর্মী সুরভী আক্তার নাহিদাকে নিয়ে বাড়ির গৃহকর্ত্রী আফরোজা বেগম ও গৃহপরিচারিকা দিতিকে খুন করে বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার লুট করেন। দীর্ঘ দুই বছর পর জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এরই মধ্যে জোড়া খুনের ঘটনায় বাচ্চু মিয়া ও সুরভী আক্তারকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট তৈরি করেছে পিবিআই। গতকাল বুধবার দুপুরে ধানম-িতে পিবিআই প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের পুলিশ সুপার (এসপি) আহসান হাবীব পলাশ এসব তথ্য জানান।
আহসান হাবীব পলাশ জানান, রাজধানীর ধানমন্ডি-২৮ নম্বর রোডের ২১ নম্বর লোবেলিয়া অ্যাপার্টমেন্টের ই-৫ ফ্ল্যাটে থাকতেন বৃদ্ধা আফরোজা বেগম। তার দেখভাল করতেন গৃহপরিচারিকা দিতি। টানা ১০ বছর ধরে ভবনটির দেখভাল করতেন মো. বাচ্চু মিয়া। দীর্ঘদিনের সম্পর্কে বিশ্বস্ত হয়ে ওঠেন তিনি। অথচ সেই বাচ্চু নতুন গৃহকর্মী সুরভীকে নতুন কাজের লোক সাজিয়ে ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর ধানমন্ডির ওই বাসায় নিয়ে আসেন। কাজের বিষয়ে গৃহকর্ত্রী আফরোজা বেগম নতুন কাজের মেয়ে সুরভী ও বিশ্বস্ত কর্মচারী বাচ্চুর সঙ্গে কথা বলেন। সুরভী ওই বাসায় প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান করে কিছু কাজও করেন। ওইদিন বিকেল ৪টার দিকে বাচ্চু মিয়া বাসায় ঢুকে আলমারির চাবি নিয়ে স্বর্ণালংকার লুটের চেষ্টা চালান। এতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ছুরিকাঘাত করা হয় গৃহকর্ত্রী আফরোজা বেগমকে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হত্যার ওই দৃশ্য দেখে ফেলায় খুন করা হয় কাজের মেয়ে দিতিকেও।
