দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে নুবা হুতার ভাগ্য যে এতটা বদলে যাবে, তা কেউ বুঝতে পারেনি। সমাজতন্ত্রের বাস্তবরূপ দেওয়ার জন্য পোল্যান্ডের এ শহরটি নির্মিত হলেও সমৃদ্ধ অর্থনীতি নিয়ে এগিয়ে চলা দেশটি এখন পুঁজিবাদের উত্তরসূরি। লিখেছেন মুমিতুল মিম্মা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে খুব কম দেশই পোল্যান্ডের মতো বিধ্বস্ত হয়। দেশটির জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হারিয়ে গিয়েছিল। নাৎসিদের হাতে দেশটির রাজধানী নাৎসিদের হাতে ধ্বংস হয়। লুট করা হয় বেশিরভাগ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। দেশটির সীমান্ত কয়েকশ কিলোমিটার পশ্চিমে সরিয়ে দেওয়া হয়। জার্মানির অংশ হওয়ার পরও লাখ লাখ লোককে দেশটির পুনরুদ্ধারকৃত অংশে স্থানান্তরে বাধ্য করা হয়। সবমিলিয়ে বিশ্বযুদ্ধের ফলে দেশটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
সবাই আশায় বুক বেঁধেছিল ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশটি আবার আগুনপাখির মতো জেগে উঠবে। ধ্বংস মানেই তো নতুন করে শুরু। অতীতের প্রত্যাশার চাপ থেকে মুক্ত হয়ে দেশটি অন্যরকম যাত্রা শুরু করবে। নতুন করে শুরু করবে তার পুনরুদ্ধার প্রকল্প, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা সামাজিক সমস্যার নতুন সমাধান আসবে। ১৯৪৮ সালে পোলিশ কমিউনিস্টরা ক্ষমতায় বসে। সে সময় দেশটির হতবিহ্বল জনগণকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে, জোসেফ স্ট্যালিন তাদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখছেন। সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শের প্রভাব পোল্যান্ডের পুনর্নির্মাণের যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পুরনো সব নিয়মনীতি ফেলে দিয়ে দেশটি আবার নতুন করে শুরু করতে পারবে সব।
এ নতুন সমাজের প্রতীক ছিল নুবা হুতা শহর। যদিও বলা হয়, শহরের যাত্রায় সমাজতন্ত্রের সরাসরি প্রভাব ছিল। ১৯৪৯ সালে ক্রাকো শহরের পূর্বদিকে এ শহর প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী দশকে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শহরটি যতটা না শহর, তার চেয়ে বেশি ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠে। শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে ভøাদিমির লেনিন স্টিলওয়ার্কস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে পোল্যান্ডের সবচেয়ে বেশি ইস্পাত উৎপাদন করতে চেয়েছিল এই প্রতিষ্ঠান। বলা যায় এই স্টিলওয়ার্কসের কারণেই শহরের নাম হয়ে দাঁড়ায় নুবা হুতা। পোলিশ ভাষায় নুবা হুতার অর্থ ‘নতুন স্টিলওয়ার্কস’। ইস্পাত শ্রমিকদের থাকার জন্য নির্মিত হয়েছিল এই শহর। যুদ্ধপরবর্তী পোল্যান্ডে নগরপরিকল্পনায় সবচেয়ে উচ্চভিলাষী প্রকল্প ছিল এটি। সমাজতন্ত্রের ইউটোপিয়ায় একটি শহরের মডেল তৈরি করলে যা দাঁড়ায় তাই-ই নুবা হুতা। সেন্ট্রাল স্কয়ার থেকে ছড়িয়ে পড়া পাঁচটি প্রশস্ত রাস্তা শহরটিকে একটি স্বতন্ত্র পঞ্চভুজের আকৃতি দেয়। স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে নির্মিত হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পঞ্চভুজ হয়ে দাঁড়ায় শহরটির দৃঢ়তার প্রতীক।
বিধিবাম! ১৯৫৩ সালে স্ট্যালিনের মৃত্যু ও পরবর্তীকালে স্ট্যালিনের স্মৃতি মুছে ফেলার আয়োজনে সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারা পিছু হটতে শুরু করে। ফলে শ্রমিকদের জন্য নির্মিত শহর নুবা হুতার বিশাল টাউন হল ও থিয়েটার কখনো আলোর মুখ দেখেনি। আর এরই সঙ্গে থমকে যায় শহরটির যেকোনো উন্নয়নমূলক কাজ।
১৯৭৩ সালে সমাজতন্ত্রীদের সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে পোল্যান্ডের রোজ এভিনিউতে লেনিনের একটি আইকনিক ভাস্কর্য স্থাপিত হয়। শহরে লেনিনের মৃতপ্রায় আদর্শের সঙ্গে এই ভাস্কর্য কতখানি যুক্তিযুক্ত কিংবা কতখানি কল্পনা তা ব্যাখ্যা করা বাহুল্য।
কল্পরাজ্যের গল্পগাথা
২০১৩ সালে পোল্যান্ডের সমাজতন্ত্র নিয়ে ডক্টর ক্যাথরিন লেবো একটি বই প্রকাশ করেন। বইয়ের নাম আনফিনিশড ইউটোপিয়া। নুবা হুতা শহরের নির্মাণ ও বিকাশের বিস্তারিত পাওয়া যায় বইটিতে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি একটি পরিকল্পিত শহর ছিল। তবে সবাই যেভাবে আশা করেছিল সেভাবে কাজ হয়নি।’ বইয়ের এক অংশে ক্যাথরিন লেবো লিখেছেন, মতাদর্শগত উৎসাহ সত্ত্বেও শহরের পরিকল্পনাকারীরা নিজেরাই ছিলেন নেতৃত্বস্থানীয় স্থপতি। তা সত্ত্বেও নগরপরিকল্পনাকারীরা জানতেন না একটি শহর কেমন হওয়া উচিত। শহর নির্মাণবিষয়ক কোনো নির্দেশনাও পাননি তারা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী শহরটির একটি আদর্শ শহরে রূপ নেওয়ার কথা ছিল। শহরের নকশায় পার্ক ও মানুষ বসবাসের জন্য প্রশস্ত অ্যাপার্টমেন্টগুলোর ওপরে জোর দেওয়া হয়েছিল। ভবনের প্রতিটি ব্লকে যেন প্রয়োজনীয় সবকিছুর বন্দোবস্ত থাকে, জোর দেওয়া হয়েছিল সে বিষয়েও। স্থানীয় শৈলীতেও প্রাধান্য পেয়েছিল সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারা। স্থাপত্যসহ সব জায়গায় শিল্পের প্রচারকে তখন গুরুত্ব দিয়ে ভাবা হয়েছিল। কেবল চোখের দেখায় আকর্ষণীয় হওয়ার জন্য নয়, বরং সমাজতান্ত্রিক থিমগুলো ফুটিয়ে তোলার জন্য এবং রাজনৈতিক পটভূমির বিচারে শহরটির গুরুত্ব বোঝানোর সর্বোচ্চ চেষ্টাও করা হয়েছিল।
নতুন ভুবনে প্রবেশের মতো পোল্যান্ডের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দারা দলে দলে এ শহরে ভিড় জমায়। শহরের সব বাসিন্দাই এর নির্মাণকালে নিজেদের জড়িয়েছিলেন। ক্যাথরিন লেবোর ভাষায়, ‘নতুন স্টিকওয়ার্কসগুলো সোভিয়েত শৈলীর প্রতিচ্ছবি হবে তেমনটিই ধারণা ছিল সবার।’ শহরটিকে রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক কলোনির মতো মানবিক ও শারীরিক রূপ দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা ছিল তখনকার শহর পরিকল্পনাকারীদের। কিন্তু সর্বোচ্চ সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও শহরটি ব্যর্থ শহরে পরিণত হয়।
লোকমুখে শোনা যায়, পোল্যান্ডের দক্ষিণভাগের শহর ক্র্যাকোফকে টেক্কা দিতে ইচ্ছাকৃতভাবে অপেক্ষাকৃত দুর্বল নুবা হুতাকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। আধুনিকতা ও সমাজতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারায় পোল্যান্ডের সাবেক রাজধানীকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর মধ্য দিয়ে দুই শহরের মধ্যে একটি অনুচ্চারিত প্রতিযোগিতা শুরু করা হয়েছিল। তবুও ক্র্যাকোফের শহুরে স্থাপত্যের প্রাচীন প্রভাব সময়ের বিচারে এগিয়ে রেখেছিল সেটিকে। নগরপরিকল্পনাকারীদের ইচ্ছে ছিল নুবা হুতাকে আধুনিক সাজে সজ্জিত করার। তবে শেষ হাসি ক্র্যাকোফই হেসেছিল। কারণ নুবা হুতা কার্যকর না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ক্র্যাকোফই এগিয়ে থাকে।
নুবা হুতা যদিও অনেক দিক দিয়ে সফল। তবে প্রতিষ্ঠাকল্পে এবং ভাগ্যের বিচারে সমাজতন্ত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারেনি এটি। নব্বই দশক থেকে শূন্য দশকে নুবা হুতা মাদক, অপরাধ, দারিদ্র্য ও গু-ামির সমার্থক হয়ে উঠেছিল। দারিদ্র্য ও অপরাধের ভারে পোল্যান্ডের এ শহর হয়ে উঠেছিল সবচেয়ে বিষণ্ন।
বদলে যাওয়া ললাটলিখন
সময় বদলেছে। একই সঙ্গে বদলেছে নুবা হুতার ভাগ্য। আধুনিককালে ইউরোপের অর্থনৈতিক সাফল্যের ভাগ অনেকাংশে পোল্যান্ডের একার। অর্থনৈতিকভাবে পোল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৬ষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতি নিয়ে এগিয়ে চলা দেশ। আর পোল্যান্ড যতখানি সফল তার পুরোটাই নুবা হুতার একার অবদান। অবস্থানগতভাবে নুবা হুতা পোল্যান্ডের কেন্দ্রে অবস্থিত। দেশটির অন্যান্য স্থানের তুলনায় নাগরিক সুবিধা বেশি বলে বসবাসের আকর্ষণীয় স্থান ধরা হয় শহরটিকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এ শহরে বাসা ভাড়া বেড়েছে। এর আগে পোল্যান্ডে সবচেয়ে বেশি বাসা ভাড়া ছিল ক্র্যাকোফে। রাতের ক্র্যাকোফ ছিল দিনের মতোই জীবন্ত। তবে ইদানীং নুবা হুতা রাতেও ধীরে ধীরে জেগে উঠতে শুরু করেছে। রেস্তোরাঁ, ক্যাফে, আইসক্রিম ও খাবারের দোকান দিয়ে শহরের মানুষদের মাতিয়ে রেখেছে শহর
কর্র্তৃপক্ষ। শুধু কি তাই? আইস-স্কেটিংয়ের মতো সাময়িক খেলাও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল শহর কর্র্তৃপক্ষের কল্যাণে।
১০ বছর আগে এ শহরে ঘুরতে আসা মানুষ হাতে গোনা যেত। কিন্তু নুবা হুতা তার কমিউনিস্ট ঐতিহ্যকে পুঁজি করতে শিখে গেছে। শহরটি যেমন শ্রমিকদের ঐতিহ্যগত বিচারে গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সমাজতন্ত্রে আগ্রহী মানুষের কাছে পোলিশ সমাজতন্ত্রের একটি চমৎকার স্বরূপ ফুটিয়ে তোলে।
মাতেউশ মারচকি এ শহরকে চোখের সামনে বদলে যেতে দেখেছেন। তিনি বলেন, ‘শহরটি আগে কেমন ছিল সে সম্বন্ধে তরুণ পোলিশদের কোনো ধারণাই নেই। নুবা হুতার কিছু অংশে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে প্রাচীন অধিবাসীদের গন্ধ পাওয়া যায়। মিসরীয় শৈলীর মিশেলে সমাজতান্ত্রিক ধারণা রূপ পেয়েছে এ শহরে। শহরে প্রাচীন সংহতি আন্দোলনের স্মৃতিস্তম্ভগুলোয় যেন আবার আন্দোলনের ডাক দিতে চায়। ১৯৮৯ সালে পোল্যান্ডে সমাজতন্ত্র ধ্বংস করে দেওয়ার স্মৃতি আমাদের আলোড়িত করে। আগে শহরের নিচে অবস্থিত প্রায় ২৫০ পারমাণবিক বাঙ্কার মানুষকে চিন্তিত করে রাখতকবে যেন তা বিস্ফোরিত হয়।’
ইতিহাস বাদ দিলেও এ শহর আরও নানা বিষয়ে মানুষকে মুগ্ধ করে রাখতে পারে। ২০১৯ সালে পুরানো মুভি থিয়েটারের জায়গায় খোলা নুবা হুতার জাদুঘর শহরটির স্মৃতি বাঁচিয়ে রেখেছে। পর্যটকদের শহরের মূল আকর্ষণ হলো এই জাদুঘর। শহরের এখানে সেখানে অবস্থিত বহু সমাজতান্ত্রিক ঘরানার নানা স্থাপত্যও সে সময়ের ছাপ বয়ে বেড়াচ্ছে।
পরিকল্পনার চাদরে
রাশিয়ার অভ্যন্তরে মাগনিতোগোরস্ক ছাড়াও বিশ্বের মাত্র দুটি পরিকল্পিত শহর আছে। পূর্ব ইউরোপীয় সমাজতন্ত্রের সঙ্গে আধুনিকতাবাদের হাত ধরে হেঁটে চলা ধূসর নিষ্ঠুরতা থেকে একেবারে ভিন্ন ধরনের শহর নুবা হুতা। শহরটির দোকানগুলো পর্যন্ত অত্যন্ত আলংকারিক। শহরের উত্তর-পূর্ব দিকে সে সময়ের সেরা পোলিশ ডিজাইনার দিয়ে শহরের ডিজাইন তৈরি করা হয়েছিল।
নুবা হুতার সমাজতান্ত্রিক স্থাপত্যের অপূর্ব নিদর্শন স্টিলওয়ার্কসের সাবেক প্রশাসনিক ভবন আজও রয়ে গেছে। সমাজতন্ত্রের ভুল রেনেসাঁর প্রতিফলন এ ভবন। ভেতরে বাইরে একই রকম সৌন্দর্যের ধারক ও বাহক। যদিও এ ভবনে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ। মাতেউশ মারচকির মতে, ‘বর্তমানে নুবা হুতার সবচেয়ে সুন্দর ভবনের একটি এই ভবন।’ ইউরোপীয় উচ্চাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে গিয়ে যেসব জাঁকজমক করা হয়েছিল এ শহরে, তা কার্যকর হয়ে ওঠেনি। কারণ শ্রমিকরা নিজেরাই এ ভার বইতে সক্ষম ছিল না।
১৯৮০ সালে পোল্যান্ড যখন সলিডারিটি ট্রেড ইউনিয়নের ডাকা ধর্মঘটে কেঁপে উঠেছিল, তখন ভ্লাদিমির লেনিন স্টিলওয়ার্কস অব নোয়া হুতা ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্ব করত। সদস্য সংখ্যার ৯৭% মানুষ তখন ট্রেড ইউনিয়নের পক্ষে কাজ করেছে। ক্যাথলিক গির্জা তখন দৃঢ়ভাবে ইউনিয়ন ও বিক্ষোভকে সমর্থন করে যাচ্ছে। ক্ষমতাসীন কমিউনিস্টদের তাদের পক্ষে নেওয়ার উদ্দেশ্যে শ্রমিকদের ডাকা হয়। আর শ্রমিকদের বিরোধিতায় নুবা হুতা নিজেই হয়ে যায় বিপ্লবের প্রতিশব্দ।
এ সময় ক্যারল ওয়েতিবা নামে এক তরুণ ক্র্যাকোফ বিশপ পরে পোপ দ্বিতীয় জন পল নাম ধারণ করে শ্রমিক এবং তাদের সমর্থনে দাঁড়ান। দেশের রাষ্ট্রীয় আইন অনুসারে শহরটি কোনো ধর্মকে প্রাধান্য দিতে চায়নি। ফলে গির্জা ছাড়াই নির্মিত হয়েছিল এ শহর। কিন্তু ধর্মের প্রতি শ্রমিকদের গভীর আকাক্সক্ষা তাদের গির্জা নির্মাণে বাধ্য করে। কোনো ভারী যন্ত্রপাতি ছাড়া কেবল ইট দিয়ে নুবা হুতার প্রথম গির্জা নির্মিত হয়। গির্জার নাম দেওয়া হয় দ্য লর্ড আর্ক। সেই থেকে আধুনিকতাবাদী ফর্মে নুবা হুতার যাত্রা শুরু হয়।
শহরের প্রধান স্থাপত্যের মধ্যে রয়েছে ১৯৯৫ সালে নির্মিত লেডি অব চেস্টোকোভা গির্জা। আকর্ষণীয় জ্যামিতিক গঠন এ গির্জাকে ধর্মের ওপরে স্থান দিয়েছিল। যেকোনো ধর্মীয় বিধানের মানুষ স্থাপত্য শৈলী দেখতে এখানে ভিড় জমায়। এই বৈপরীত্যগুলো শহরটিকে তার উদ্দেশ্য থেকে সরিয়ে নিয়েছিল। রাস্তার নামে, গির্জায় এমনকি শহরের ভাগ্যেও সে বিরূপ ছাপ লেগেছিল।
শহরটি সমাজতন্ত্রের একটি জীবন্ত প্রতীক হিসেবে রয়ে গেছে। স্ট্যালিনের পুনর্গঠনের সাহস থেকে শুরু করে কমিউনিস্টবিরোধী ধর্মীয় বিদ্রোহ সবটার সাক্ষী এই শহর। সমাজতন্ত্র যতখানি ক্ষয়ে গেছে, সে অবক্ষয়ের কথাও শহরের প্রতিটি ইট জানে। শেষ পর্যন্ত নতুন পোল্যান্ডের পুনরুদ্ধার যেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ভাগ্যাহত পোল্যান্ডের আগুনপাখি হয়ে ওঠার প্রতিচ্ছবি। নুবা হুতা এখন নতুন জীবন পেয়েছে। সমাজতান্ত্রিক আদর্শ বহু আগেই বিক্রি করে দেশটি খুঁজে নিয়েছে গণতান্ত্রিক, পুঁজিবাদী ও ইউরোপের বিশাল অর্থনীতির নতুন পথ। দেশটির চোখে এখন পুঁজিবাদী স্বপ্ন। সে স্বপ্নে ঢাকা পড়ে গেছে দেশটির প্রাচীন সমাজতান্ত্রিক ইতিহাস।
