অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে: গণসংহতি

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৫:৩৫ পিএম

চলমান সংকট নিরসনের জন্য বর্তমান সরকারকে পদত্যাগ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেছেন, কেবলমাত্র একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার বর্তমান সংকটের সমাধান দিতে পারবে না, আমাদের এখন নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত দরকার।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর হাতিরপুলে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘রাজনৈতিক সংকট উত্তরণের রূপরেখা ও করণীয়; সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বৃহত্তর ঐক্য’ প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলন করে গণসংহতি আন্দোলন।

প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উত্থাপন করেন দলের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল। সঞ্চালনা করেন সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জুলহাসনাইন বাবু। প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ ও তাসলিমা আখতার।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচন ও ২০১৮ সালে আগের রাতেই এক নজিরবিহীন ভোট ডাকাতির মাধ্যমে এক ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছে। মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করে তাদের নাগরিকত্বের মর্যাদা কেড়ে নিয়েছে এই সরকার। গুম, খুন, অপহরণ, নির্যাতন, হয়রানি, জেল-জুলুমের মাধ্যমে বিরোধিতাকে দমন করা হচ্ছে। মানুষের জান-জবানের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে।

‘পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে মানুষ সমালোচনা করতেও এখন ভয় পায়। নজরদারি এমন চূড়ান্ত আকার নিয়েছে যে প্রত্যেক নাগরিকই আজ ভীতসন্ত্রস্ত। আর গোটা জনগণকে এ রকম পরিস্থিতে রেখে গুটিকতক লুটেরাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে লুণ্ঠনের স্বর্গরাজ্য।’

আরও বলা হয়, এই একই ধারাবাহিকতা আমরা দেখব বর্তমান সরকারের নির্বাচন কমিশন গঠনের তৎপরতার ভেতরেও। বর্তমানে আন্তর্জাতিক চাপ থাকায় সবকিছু আইনি প্রক্রিয়ায় হচ্ছে এ রকম একটা ধারণা দেয়ার জন্য তড়িঘড়ি করে নির্বাচন কমিশন আইন করে তাদের চলমান তৎপরতাকে বৈধতাদানের চেষ্টা চলছে। অথচ বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা স্পষ্টতই বলে, এখানে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও সংস্কৃতির এমন কোনো বিকাশ ঘটেনি যে, একটা দলীয় সরকারের অধীনে কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব।

‘অতীতের মতোই এই সরকারের অধীনেও গত ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন তার প্রমাণ। এই সরকার এমন নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী যে, এই সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন তৈরিতে যে আইনই বানানো হোক তা থোর বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোর হতে বাধ্য। যে সংসদ নিজেই জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, তা আইন করে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেবে এটা নিতান্তই কষ্টকল্পনা।’

সরকার আগামী নির্বাচনও তার ২০১৪, ২০১৮ নির্বাচনের ছকেই করতে চায়। কাজেই এই সরকারের পদত্যাগের মাধ্যমে রাজনৈতিক ঐক্যমতের ভিত্তিতে গঠিত একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনেই কেবল গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে সক্ষম নির্বাচন কমিশন গঠিত হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত