‘শরীফের চাকরিচ্যুতি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজের ক্ষেত্রে বাধা হবে’

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৬:০৫ পিএম

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপসহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিনকে অপসারণ করা অন্যদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম দুদকের কর্মীরা।

গতকাল বুধবার দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহর সই করা এক চিঠিতে পটুয়াখালী কার্যালয়ে কর্মরত উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়। তবে কী কারণে অপসারণ করা হয়েছে, তা চিঠিতে উল্লেখ নেই।

অপসারণের ঘটনায় গতকাল বুধবার থেকেই চট্টগ্রাম দুদকের ২০ জনের বেশি কর্মী তাদের ফেসবুক প্রোফাইল কালো করে এ ঘটনার নীরব প্রতিবাদ জানান।

আজ বৃহস্পতিবার নগরের আগ্রাবাদে দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ে সাত থেকে আটজন নিজের টেবিল ছেড়ে কার্যালয়ের নিচে দাঁড়িয়ে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করেছেন।

তারা বলছেন, ‘শরীফ উদ্দিন সততার সঙ্গে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে তার দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কারও সঙ্গে আপস করেননি। কোনো ধরনের হুমকিতেও নিজের দায়িত্ব থেকে চুল পরিমাণ সরে দাঁড়াননি। এ রকম একজন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা দুঃখজনক। তার এই অপসারণ অন্যদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।’

চট্টগ্রামে কর্মীদের অসন্তোষের বিষয়ে দুদক চট্টগ্রামের পরিচালক মাহমুদ হাসান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি নিজে এখন অফিসে কাজ করছি। অন্যরাও করছেন। কর্মবিরতি কিংবা কাজে যোগ না দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি নিয়ে কারও অসন্তোষ থাকলে সেটি যার যার ব্যক্তিগত বিষয়। অফিশিয়ালি আমরা কাজ করছি। কোনো অসুবিধা নেই।’

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার শরীফ উদ্দিনকে চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছেন তার সহকর্মীরা।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপসহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিন প্রায় সাড়ে ৩ বছর দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। সে সময় এনআইডি সার্ভার ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি ভোটার করার অভিযোগে ২০২১ সালের জুনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) একজন পরিচালক, ৬ কর্মীসহ আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে তিনি মামলা করেছিলেন। এ মামলার পরপর ১৬ জুন তাকে চট্টগ্রাম থেকে পটুয়াখালীতে বদলি করা হয়। আর গতকাল বুধবার তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়।

পটুয়াখালীতে গত বছরের ১৬ জুন বদলির আগে শরীফ দুদক চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় তার বদলি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল।

দুদক সূত্রে জানা যায়, শরীফ উদ্দিন চট্টগ্রামে কর্মরত অবস্থায় রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে ভোটার করায় জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে মামলা, অবৈধ গ্যাসসংযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য মো. মুজিবুর রহমান, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনের মহাব্যবস্থাপক সরোয়ার হোসেন, সাবেক মহাব্যবস্থাপক মো. আলী চৌধুরীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করে আলোচনায় আসেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম–কক্সবাজার হাইওয়েসংলগ্ন বাইপাস রোড এলাকায় পিবিআই কার্যালয় নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণের দুর্নীতির বিষয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দিয়ে মামলার সুপারিশ করেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, রেলসহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির ঘটনার তদন্তে ঊর্ধ্বতন অনেক কর্মকর্তাদের নাম থাকায় আলোচনায় ছিলেন শরীফ। নাম উঠে আসায় আলোচনায় থাকেন শরীফও।

শরীফ উদ্দিনকে প্রভাবশালীরা কৌশলে সরিয়ে দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী। তিনি শরীফকে অপসারণের বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে তাকে চাকরিতে ফিরিয়ে আনা উচিত বলে মনে করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত