ইউক্রেন ও বিদ্রোহীদের মধ্যে কয়েক বছরে সর্বোচ্চ গোলাবিনিময়

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৬:১৪ পিএম

ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা কমে আসার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ইউরোপের অনেক দেশেরই আশঙ্কা যেকোনো সময় পরিস্থিতি যুদ্ধের মোড় নিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এন্টনি ব্লিঙ্কেন ইতোমধ্যেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর ‘ফলস ফ্লাগ’ অপারেশন চালাতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শুক্রবার দেয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, পুতিন ইউক্রেনে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন, যেকোনো সময় হামলা শুরু হতে পারে। এই প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র বলছে যে, রাশিয়া নিশ্চিতভাবেই ইউক্রেনে হামলা চালাবে।

ওদিকে, এই হুঁশিয়ারির পরে বিদ্রোহীদের হামলায় তাদের একজন সেনা নিহতের কথা জানাল ইউক্রেন। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়ার মদতপুষ্ট বিদ্রোহীদের নিক্ষিপ্ত গোলায় তাদের একজন সেনা নিহত হয়েছেন।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় বিদ্রোহীরা ইউক্রেনের ২০টি স্থাপনায় ৬৬ বার গোলা নিক্ষেপ করেছে, যা মিনস্ক চুক্তির লঙ্ঘন।

গত কয়েক বছরের মধ্যে ৪৮ ঘণ্টায় ইউক্রেনের বাহিনী ও মস্কো মদতপুষ্ট বিদ্রোহীদের মধ্যে সর্বোচ্চ গোলা বিনিময় হয়েছে।

অন্যদিকে, সরকারি বাহিনীর হামলার আশঙ্কায় বিদ্রোহীরা তাদের অঞ্চলের রুশ ভাষাভাষী নাগরিকদের ইউক্রেন ত্যাগ করে পূর্ব রাশিয়ায় চলে যেতে বলেছে।

বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রায় ৭ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা আছে তাদের। যদিও ইউক্রেন দাবি করেছে, এরা রাশিয়ার নাগরিক। আর বিদ্রোহী অধ্যুষিত অঞ্চলে হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও ইউক্রেন থেকে আসা রুশভাষীদের আশ্রয়, খাদ্য ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রশাসনকে। এমনকি ইউক্রেন থেকে আশ্রয় নিতে আসা প্রত্যেক ব্যক্তিকে ১০ হাজার রুবল দিতে বলা হয়েছে।

এমন মুহূর্তে ন্যাটো সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে দেশ ছেড়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।

যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব ধারণা করছে, রাশিয়া হামলার ইস্যু তৈরির চেষ্টা করছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, রাশিয়া সীমান্তে ১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন করেছে। যদিও গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংখ্যাটি ১ লাখ ৯০ হাজার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিই ইউরোপে সবচেয়ে বড় সেনা মোতায়েনের ঘটনা।

এদিকে ইউক্রেন সীমান্তের কাছাকাছি ৫০০ কিলোমিটার রেঞ্জের ইস্কান্দার ব্যালাস্টিক মিসাইল নিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। ধারণা করা হচ্ছে, কিয়েভ হামলার জন্য এই মিসাইল নেয়া হচ্ছে।

উপগ্রহচিত্র থেকে দেখা যাচ্ছে, ইউক্রেন সীমান্ত বরাবর বিমান ঘাঁটিগুলোতেও জড়ো করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক রুশ যুদ্ধবিমান। পশ্চিম রাশিয়ায় অবস্থিত রুশ বিমানঘাঁটিগুলোর পাশাপাশি ইউক্রেনের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া ক্রাইমিয়া এমনকি, সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের অংশ বেলারুশেও রুশ বিমানবহরের উপস্থিতি নজরে এসেছে।

ইউক্রেন সীমান্তের ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে অন্তত ১৪টি ঘাঁটি বানিয়েছে রুশ সেনাবাহিনী। দ্রুত সীমান্তে সেনা পাঠাতে রাতারাতি তৈরি করে ফেলা হয়েছে অস্থায়ী সেতু। ক্রাইমিয়ার বন্দরে কয়েক দিন আগেই পৌঁছেছে তিনটি রুশ যুদ্ধজাহাজ। সাঁজোয়া গাড়ি, কামান, যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন শুরু হয়েছিল আগেই।

রাশিয়ার মদদপুষ্ট বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, তাদের কার্যালয়ের সামনে গাড়ি বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে ইউক্রেনের সরকারি বাহিনী। সর্বশেষ তারা অভিযোগ করেছে ইউরোপের সঙ্গে সংযোগকৃত রাশিয়ার গ্যাস পাইপলাইন উড়িয়ে দিয়েছে ইউক্রেন।

রাশিয়া এখনও ইউক্রেনে হামলার পরিকল্পনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি পরিস্থিতি উসকে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো। তবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলছেন, এখনও কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যা সমাধান সম্ভব।

রাশিয়া দাবি করে আসছে, পূর্ব ইউরোপ থেকে ন্যাটো সেনা সরাতে হবে এবং ইউক্রেনকে কখনোই ন্যাটোভুক্ত করা যাবে না। সংস্থাটিকে ১৯৯৭ সালের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে হবে।

রাশিয়ার নিরাপত্তাসংক্রান্ত দাবি মেনে নিতে অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো। যার ফলে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। যদিও উত্তেজনা নিরসনে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ ও জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস রাশিয়া সফরে গিয়েছিলেন। তবে অবস্থার উন্নতি হয়নি।

২০১৪ সালে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপত্যকা দখল করে নিয়েছিল রাশিয়া। এরপর শুরু হয় ইউক্রেন সেনাবাহিনীর সঙ্গে রাশিয়ার মদতপুষ্ট বিদ্রোহীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। যাতে কমপক্ষে ১৪ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত