বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষার্থীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের বিচার চেয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে শিক্ষার্থীরা। দলবদ্ধ ধর্ষণ ও ছাত্রলীগের হামলার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ চান তারা।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় ও জেলা ছাত্রলীগ বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-শিক্ষার্থীর ওপর হামলা করে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন তারা।
শুক্রবার বেলা ১১টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা ধর্ষণ ও ধর্ষণের ঘটনায় বিচারের দাবিতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধকারী শিক্ষার্থীসহ উপাচার্য ও শিক্ষকদের ওপর জেলা ছাত্রলীগের ‘ন্যক্কারজনক হামলার’ বিচার দাবি করেন।
আন্দোলনরত ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী কারিমুল হক বলেন, আমাদের বোনের ধর্ষণের বিচার, গতকাল আমাদের ওপর যে অতর্কিত হামলা করা হয়েছে তার প্রতিবাদ এবং শিক্ষক-উপাচার্য স্যারকে শারীরিকভাবে নিপীড়ন ও তাদের ওপর হামলার প্রতিবাদসহ সবকিছুর বিচার দাবিতে আজকে আমরা এখানে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। আমরা বশেমুরবিপ্রবি পরিবারের সবার নিরাপত্তা ও শিক্ষার সঠিক পরিবেশ চাই।
ইতিহাস বিভাগের তামিরুল হক বলেন, আমরা ধর্ষণের বিচারসহ হামলাকারীদের বিচার চাই। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ আশা করছি।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রাজু আহমেদ জানান, ধর্ষণের বিচার চাইতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হামলার শিকার হতে হবে আমরা কল্পনা করিনি। এই হামলা ও বোনের ধর্ষণের সুষ্ঠু বিচার চাই, বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।
এরপর দুপুর ১টার দিকে প্রেস ব্রিফিং করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, গোপালগঞ্জের সকল স্তরের জনগণের ওপর থেকে আস্থা হারিয়েছেন তারা। এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি হস্তক্ষেপ না আসলে সব শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বশেমুরবিপ্রবি থেকে ছাত্রত্ব ও শিক্ষকতা ছেড়ে চলে যাবেন বলে প্রেস কনফারেন্সে ঘোষণা দেন।
গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। বিচারের দাবিতে ভোর থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। ধর্ষকদের বিচার চাওয়ার জেরে স্থানীয় ও ছাত্রলীগ কর্তৃক দফায় দফায় হামলার শিকার হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
