ইউক্রেন আক্রমণের এক সপ্তাহের মধ্যেই দেশের পরমাণু অস্ত্রকে তৈরি রাখার নির্দেশ দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর পর আর দেরি না করে পারমাণবিক বোমারোধী বিমানের প্রথম পরীক্ষামূলক উড়ান সেরে ফেলল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
যেন পরোক্ষে মস্কোকে বুঝিয়ে দেওয়া হল সম্ভাব্য পরমাণু যুদ্ধের জন্য তৈরিই আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র! মার্কিন প্রেসিডেন্ট সহ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জন্য এই বিমান বানানো হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম এলাকার রাজ্য নেব্রাস্কায় পরমাণু অস্ত্ররোধী ওই বিমানের পরীক্ষামূলক উড়ান চালানো হয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি।
পেন্টাগন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর ওই পরমাণু অস্ত্ররোধী বিমানটি গত সোমবার পরীক্ষামূলক ভাবে ওড়ানো হয় নেব্রাস্কার বিমানবাহিনীর ঘাঁটি থেকে। সাড়ে চার ঘণ্টার উড়ানে বিমানটিকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় শিকাগোতে।

বিমানটিকে আকাশে ওড়ানোর আগে ওড়ানো হয় কয়েকটি জেট বিমান। যাতে কোনও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এসে বিমানটিকে আঘাত না করে তার উপর নজর রাখতে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বোয়িং-৭৪৭ মডেলের বিমানকেই পরমাণু অস্ত্ররোধী ব্যবস্থা দিয়ে সাজিয়ে তুলে এই বিমানটি বানানো হয়েছে। যার নাম- ‘বোয়িং-ই৪বি’। এর একটি ডাকনামও রয়েছে। ‘কেয়ামত দিবসের বিমান (ডুমস্ডে প্লেন)’।
গত শতাব্দীর সাতের দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর যে নাইটওয়াচ বিমানবহর ছিল পরমাণু অস্ত্ররোধী এই বিমানটি তারই অংশ বলে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পরমাণু যুদ্ধের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং সেনাবাহিনীর বিভিন্ন শাখার শীর্ষস্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ রক্ষা ও তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ বাধাহীন ভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই বিমানটি বানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ২০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই বিমানটিতে কোনও ডিজিটাল ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ব্যবহার করা হয়েছে ডিজিটালের আগের যুগের যোগাযোগ ব্যবস্থা।
যাতে পরমাণু বোমার আঘাতে বা পরমাণু বিস্ফোরণের ফলে তৈরি হওয়া তীব্র শক্তিশালী কম্পাঙ্কের তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গে এই বিমানটি অচল এবং নিষ্ক্রিয় না হয়ে পড়ে।
কোনও জানলা নেই বিমানটির। চালক, সহকারী চালক ছাড়া যাত্রীরাও থাকতে পারেন এই বিমানে। তিন তলা বিমানে সর্বমোট ১১২ জন মানুষ এই বিমানে চড়তে পারবেন।

পরমাণু বোমার ফলে যে প্রচণ্ড পরিমাণে তাপশক্তি তৈরি হয় তাতে যাতে ঝলসে না যায় বিমানটি তার জন্য তিনটি স্তরের রক্ষা-আবরণী রয়েছে বিমানের বাইরে।
বিমানটির মাথার বিভিন্ন অংশে ৬৫টিরও বেশি স্যাটেলাইট ডিশ ও অ্যান্টেনা রয়েছে। যাতে বিমানটি আকাশ থেকে পৃথিবীর সবকটি দেশের যে কোনও প্রান্তে থাকা জাহাজ, সাবমেরিন, যাত্রী ও যুদ্ধবিমান এবং সব ল্যান্ডলাইন টেলিফোনে মুহূর্তের মধ্যে যোগাযোগ করতে পারে।
বিমানটি বাতাসে ভাসমান অবস্থাতেই জ্বালানীও নিতে পারবে এবং একটানা ৩৫.৪ ঘন্টা পর্যন্ত উড়তে ও সচল থাকতে পারবে।
যাইহোক, জাহাজটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছিল যে, সেটি যেন মাটিতে নামা ছাড়াই পুরো এক সপ্তাহের জন্য উড়তে সক্ষম হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখন এমন ৪টি বিমান রয়েছে।
সূত্রঃ ডেইলি মেইল
