উত্তরা সেক্টরে উচ্ছেদের পর ফের দখলে রাজউকের জায়গা

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২২, ০৪:১২ পিএম

সপ্তাহ না যেতেই উত্তরা ১২ নম্বর খালপাড় হতে শুরু করে ডিয়াবাড়ি গোল চত্বর এলাকার অধিকাংশ আবার‌ও অবৈধ দখলকারীদের কবলে চলে গেছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে বসেছেন সেখানকার ব্যবসায়ীরা। এক সপ্তাহ আগে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজ‌উক) ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে।

এ সময় বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় শতাধিক স্থাপনা এবং দখলদারমুক্ত করা হয় ফুটপাতসহ রাজউকের জমিতে অবৈধভাবে বাণিজ্যিক ব্যবহার ও নকশাবহির্ভূত স্থাপনা। কিন্তু এখন স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় আবারও সেই পুরোনো চেহারায় ফিরে এসেছে ১২ নম্বর খালপাড় হতে ডিয়াবাড়ি গোলচত্বর এলাকায়।

বৃহস্পতিবার খালপাড় দিয়াবাড়ি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এই চিত্র।

গত (৬ মার্চ) রবিবার অভিযানে নেতৃত্ব দেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন আক্তার ও পিডি হাফিজুল ইসলাম। শতাধিক রাজউকের জমিতে অবৈধভাবে বাণিজ্যিক ব্যবহার ও নকশাবহির্ভূত স্থাপনা রাস্তা দখল করে দোকান প্লট গাড়ির গ্যারেজ অপসারণে অভিযান পরিচালনা করে রাজ‌উক। ফলে রাস্তার বড় অংশ অবৈধ দখলদার মুক্ত হয়। সেই অভিযানেও রাজউকের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন সেখানকার লোকজন।

কিন্তু এখন পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় চলে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় লোকজন।

তাদের অভিযোগ, ফুটপাত অবৈধভাবে দখল এর পেছনে স্থানীয় সরকার দলীয় ও প্রভাবশালীদের প্রত্যক্ষ মদদ আছে, যার ফলে অভিযান পরিচালনা করে ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা যাচ্ছে না।

দিয়াবাড়ি বাসিন্দা আমজাদ আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, এমন অভিযান আগেও হয়েছিল কিন্তু অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। এবার রাজউকের যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছিল, ভেবেছিলাম ভালো কিছু হবে। কিন্তু সেখানেও পক্ষপাতিত্বের করেছে রাজউক। যে কারণে অভিযান শুরু করার কথা ছিল ১০টায়, সেই অভিযান শুরু হয়েছে বিকেল ৪টায়। অনেক কিছু অপসারণ না করেই চলে যান তারা।

অন্য আরেক বাসিন্দা রাজিয়া খাতুন বলেন, এই সেক্টরে অধিকাংশ বাইরের লোকজন ঘুরতে আসে। প্রকৃতির সৌন্দর্য ভরা ছিল এই জায়গাগুলো। এখন এখানে আছে ট্রাক স্ট্যান্ড, গাড়ির টায়ার বিক্রি অসংখ্য দোকান, গাড়ির গ্যারেজ, খাবার হোটেল, টং দোকান, ভাঙারির দোকানসহ অন্যান্য দোকান।

একাধিক দোকানদারের সঙ্গে কথা বলে জানা জায়, প্রায় ১৮ থেকে ১৯টি গাড়ির চাকার দোকান আছে প্রতি দোকান ১০,০০০ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হয়। মোট এক লাখ ৯০ হাজার টাকা। অন্যান্য দোকান, হোটেল, ভাঙারি থেকে তোলা হয় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা সেখানে আছে ৬০ থেকে ৭০টি দোকান মোট ভাড়া আসে আনুমানিক তিন লাখ ৬০ হাজার থেকে চার লাখ টাকা। দোকান অগ্রিম সম্মানী বাবদ দেয়া লাগে তিরিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা। সেই টাকাটি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি লোকজন ও নূর হোসেনসহ বেশ কয়েকজনের নামে টাকা তোলা হয়। 

এ বিষয়ে নূর হোসেনের ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি এখন ব্যস্ত আছেন পরবর্তীতে কথা বলবেন বলে জানান।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) কর্মকর্তা পিডি হাফিজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, উচ্ছেদ অভিযান এটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা যে অভিযানটি করেছি, সেই জায়গায় কেউ পুনরায় স্থাপনা না করতে পারে, সেজন্য থানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের আমরা চিঠি দিয়েছি। যারা স্থাপনা করবেন পরবর্তী অভিযানে তাদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, উত্তরা সেক্টরজুড়ে এই সপ্তাহে বেশ কিছু অভিযান আছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত