ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে ছাত্রলীগের কর্মীদের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে হল প্রাধ্যক্ষের কাছে যান কয়েকজন সাংবাদিক। সেখানে উপস্থিত ওই হলের হাউজ টিউটর মো. রাকিব উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ছাত্ররা কী করছে সেটা দেখা আমাদের কাজ নয়।
শুক্রবার দুপুর ৩টার দিকে হল প্রাধ্যক্ষের কক্ষে তিনি এই মন্তব্য করেন।
শিক্ষার্থী নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ওই শিক্ষক বলেন, ‘আমাদের কাজ তো ২৪ ঘণ্টা ছাত্রদের সঙ্গে থাকা না। ছাত্ররা কী করছে সেটা দেখা আমাদের কাজ না। আমাদের পরিবার আছে, ছেলে সন্তান আছে। তারপর ক্লাস নিতে হয়। গেস্টরুমে কোন ছেলে কীভাবে দাঁড়িয়ে আছে সেটা চেক করার দায়িত্ব কি আমাদের?’
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষকদের মধ্যে থেকে হাউজ টিউটর নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের কাজের সুবিধার্থে আলাদা আলাদা ফ্লোর ভাগ করে দেওয়া হয়। নিজ নিজ ফ্লোরের শিক্ষার্থীরা কী করছে সেটা দেখভাল করা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের দায়িত্ব।
হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, এ শিক্ষক তার ফ্লোরে কখনো যান না। তাদের অভিযোগ এ শিক্ষক ছাত্রদের সেবা করতে নয়, হাউজ টিউটরদের জন্য বরাদ্দকৃত সুবিধা পেতে এ দায়িত্ব নিয়েছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের আবু তালিব নামের দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন বঙ্গবন্ধু হলের তৃতীয় বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী।
অভিযুক্তরা হলেন সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শেখ শান্ত আলম, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ইমদাদুল হক বাঁধন, তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থগার বিভাগের শাহাবুদ্দিন ইসলাম বিজয়, আইন বিভাগের নাহিদুল ইসলাম ফাগুন।
অভিযুক্তরা বঙ্গবন্ধু হলের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান শান্তর সঙ্গে রাজনীতি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তালেবের মুখে জোরপূর্বক সিগারেট জ্বালিয়ে দিয়ে তা হাত দিয়ে না ধরে, মুখ থেকে না নামিয়ে, ধোঁয়া না ছেড়ে পুরো সিগারেট খেতে বলেন শান্ত ও বাঁধন। ছেলেটির হাত পেছনের দিকে রাখতে বাধ্য করা হয়। জ্বলন্ত সিগারেট মুখ আর তার সব ধোঁয়া নাক দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছিল। তিনি কান্না করছিলেন দেখে বাঁধন তাচ্ছিল্য করে বলেন, ‘কান্দস ক্যান, তুই কি মেয়ে নাকি?’ এভাবে সিগারেটের দুই-তৃতীয়াংশের ধোঁয়া নিতে বাধ্য করার পর একপর্যায়ে বাঁধন বলে ওঠে, ‘এই তুই তো মরে যাবি।’
ভুক্তভোগী অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবু তালিব পরে ভয়ে হল ছাড়েন।
সূত্র জানায়, পরীক্ষার কারণে ছাত্রলীগের প্রোগ্রামে উপস্থিত না থাকার অভিযোগে ১০-১২ শিক্ষার্থীকে ৩০১(ক) থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য রুম তালাবদ্ধ করে রাখা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শেখ শান্ত আলম, ইমদাদুল হক বাঁধন, নাহিদুল ইসলাম ফাগুন তা অস্বীকার করেন। এ ছাড়া অভিযুক্ত শাহাবুদ্দিন ইসলাম বিজয়কে একাধিকবার কল দিয়েও পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান শান্ত বলেন, যারা এসব কাজ করে তাদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে।
হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আকরাম হোসেন বলেন, আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। তদন্ত করে আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।
