দেশে ২০২২ সালের মধ্যে একটা পরিবর্তনের ঝড় উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শামসুজ্জামান দুদু।
তিনি বলেন, আমার মনে হয় এ বছরই একটা পরিবর্তনের ঝড় উঠবে। এই ঝড় গণতন্ত্রের স্বপক্ষের, স্বাধীনতার স্বপক্ষের, এই ঝড় ১৯৭১ সালে যারা শহীদ হয়েছিল তাদের স্বপক্ষে।
জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে শনিবার সকালে স্বাধীনতা অধিকার আন্দোলনের উদ্যোগে বিএনপির সাবেক মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন এবং খ্যাতিমান আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
কৃষক দলের সাবেক এই আহ্বায়ক বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের কাছে এই দেশবাসী যে প্রত্যাশা করেছিল তার কিছুই পায়নি। সাড়ে তিন বছরের যে শাসনকাল তার মধ্যে দুটি শব্দ আছে, একটি হলো মজুতদারি। এটা আমাদের শেখ মুজিবুর রহমান বলতেন মজুতদারদের ধ্বংস করতে হবে।
শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে বলেছিলেন লোকে পায় সোনার খনি, আমি পেয়েছি চোরের খনি। সাড়ে সাত কোটি কম্বল আমার কম্বল কোথায়? শেখ মুজিবুর রহমানের কম্বল কোথায়? শেখ হাসিনা বেঁচে আছেন এখন যে দুর্নীতি হচ্ছে তাতে আপনি কষ্ট পাইয়েন না। আপনার বাবার আমলেই আওয়ামী লীগের লোকজন কথা শুনে নাই। এখন আপনার সুসময়ে আপনার কথা শুনবে এটা ভাবা ঠিক হবে না।
খন্দকার দেলোয়ার হোসেন ও মওদুদ আহমেদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, জাতির জন্য রাজনীতির জন্য এই দুজনের যে অবদান ঘণ্টার পর ঘণ্টা বক্তব্য দিলেও তাদের অবদানের কথা শেষ হবে না।
তিনি বলেন, তথাকথিত ওয়ান ইলেভেনের সময় মৃত্যুপথযাত্রী হয়েও খন্দকার দেলোয়ার হোসেন গণতন্ত্রের স্বপক্ষে একটা ভূমিকা নিয়েছিলেন। খন্দকার দেলোয়ার, মওদুদ আহমেদ আজীবন গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করে গেছেন। আমরা যদি গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চাই তাহলে এই দুজনকে স্মরণ করতে হবে, বন্ধু ভাবতে হবে, নেতা ভাবতে হবে।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনিরের সভাপতিত্বে শোকসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, জাতীয় দলের সভাপতি এহছানুল হুদা, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ প্রমুখ।
