নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধু-বাংলাদেশ ও শেখ হাসিনাকে জানতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২২, ০৯:১৭ পিএম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ ও দেশের অগ্রযাত্রায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যা করে যাচ্ছেন তা নতুন প্রজন্মকে জানতে আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

বঙ্গবন্ধুর ‘কারাগারের রোজনামচা’ বইয়ের ওপর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের এক কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ এবং ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী অধ্যাপক রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের সামনে মিথ্যায় ভরা তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। ইতিহাস নিজের গতিতে চলে। নতুন প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস জেনে কারা বঙ্গবন্ধুর ঘাতক ছিল, কারা দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে, এসব বিষয় জেনে তারা তাদের বিচার বুদ্ধি দিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে, তার ত্যাগের কথা জানতে হবে, দেশের জন্য, মানুষের জন্য ভালোবাসার কথা জানতে হবে। বঙ্গবন্ধু অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের কথা বলেছেন। যারা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে আজ তারা এখানে উপস্থিত। তোমাদের জানতে হবে প্রধানমন্ত্রী দেশকে কোন পর্যায় থেকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন।

আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, আমাদের স্বাধীনতার জন্য হাজার বছর ধরে লাঞ্ছনা, বঞ্চনা, অপমানের ক্ষত নিয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে একজন বঙ্গবন্ধুর জন্য। বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে হাজার বছরের ক্ষত থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশের মানুষের মুক্তিদাতা, ত্রাণকর্তা। তিনি আমাদের স্বল্প সময়ে একটি পতাকা, একটি দেশ, একটি মানচিত্র উপহার দিয়েছেন।

আইজিপি বলেন, বঙ্গবন্ধু ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ, আত্মমর্যাদাশীল জাতির জন্য লড়াই করে গেছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আজ আমরা দারিদ্র্য জয়ের দ্বার প্রান্তে। আজ অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক উন্নয়ন, এসডিজি অর্জন এমন কোনো সামাজিক দিক নেই যেখানে আমরা আলোচিত হচ্ছি না। এটা সম্ভব হয়েছে কারণ বঙ্গবন্ধু দেশটাকে স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন।

আইজিপি বলেন, আগামী প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুকে যত বেশি চর্চা করবে আমাদের পারস্পরিক ঐক্য ও দেশপ্রেম তত বেশি সুদৃঢ় হবে। আর যত বেশি পারস্পরিক ঐক্য ও দেশপ্রেম সুদৃঢ় হবে দেশ তত এগিয়ে যাবে।

আইজিপি বলেন, পরিবর্তনের জন্য বেশি মানুষের প্রয়োজন হয় না। যে দশ হাজার শিক্ষার্থী কুইজে অংশগ্রহণ করেছে তাদের মধ্য থেকে দশ জন বের হয়ে আসলেই দেশ বদলাতে পারবে।

ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধু জাতি গঠনের জন্য মানুষকে তৈরি করেছেন, ধাপে ধাপে দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে সন্তানদের গড়ে তোলার জন্য  অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।

রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বলেন, বঙ্গবন্ধুকে ছাত্রছাত্রীদের কাছে পৌঁছে দেয়ার এ প্রয়াস নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এখন পড়ার অভ্যাস কমে গেছে। পড়তে হবে প্রশান্তির জন্য, জ্ঞান অর্জনের জন্য, বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য পড়তে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ আজ মর্যাদার আসনে রয়েছে। জনগণের সম্মানের জায়গাটা তারা অর্জন করতে পেরেছে।

সভাপতির বক্তব্যে বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর বই পড়ার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে শিক্ষার্থীদের মাঝে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করেছি।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, পরীক্ষার্থী হওয়ার জন্য পড়া নয়, পড়া হোক শিক্ষার্থী হওয়ার জন্য।

বঙ্গবন্ধুর ‘কারাগারের রোজনামচা’ বইয়ের ওপর কুইজ প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দশ হাজার ৮০০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ১০০ তে ১০০ নম্বার পেয়েছে ৪৩৯ জন। এ ৪৩৯ জনকেই পুরস্কৃত করা হয়েছে। এর মধ্যে  লটারির মাধ্যমে অষ্টম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১০ জন এবং একাদশ থেকে তদূর্ধ্ব পর্যায়ে ১০ জন নির্বাচিত করা হয়।

পুরস্কারজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শেখ মো. তাসনিম ফাহিম রহমান এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোসাম্মৎ তানিয়া খাতুন বক্তব্য রাখেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত