কথায় আছে, ভালবাসার কোনও সীমানা নেই। নেই কোনও দেয়াল। তাই সুদূর ইউক্রেনে থেকেও দিল্লিতে প্রেম নিবেদন করা যায়। আবার সেই প্রেম পরিণতিও পায়! সম্প্রতি ভারতের দিল্লি বিমানবন্দরে এমনই একটি দৃশ্য ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছে।
২০২০ সাল। ভারতে তখন করোনার জেরে পুরোদমে লকডাউন চলছে। লকডাউন জারি হওয়ার ঠিক আগেই ইউক্রেনের কিয়েভ থেকে ঘুরতে এসেছিলেন তরুণী আনা হোরোডেটস্কা। মহামারীর কারণে আনা ভারতে আটকে পড়েছিলেন।
সেই সময় তার সঙ্গে পরিচয় হয় দিল্লি হাই কোর্টের আইনজীবী অনুভব ভাসিনের। সেই সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। আর এখান থেকে পরস্পরকে ভাললাগার পর্ব শুরু। সেই ভাললাগা ধীরে ধীরে ভালবাসার পর্যায়ে পৌঁছায়।
অনুভব জানিয়েছেন, আনার ভারতে ঘুরতে আসা এবং এখান থেকে ইউক্রেনে ফের চলে যাওয়ার মধ্যে যে সময়টুকু পেয়েছিলেন, সেই সময়ের মধ্যেই দুজনের মধ্যে একটা বন্ধুত্বের সম্পর্ক এবং সেখান থেকে একটা সময়ে ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে দুজনের মধ্যে। কয়েক দিন পর আনা দেশে ফিরে গেলেও তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল অভিনবের।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। একের পর এক শহর ছেড়ে ইউক্রেনীয়রা প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে শুরু করেন। কিন্তু আনা পোল্যান্ড বা হাঙ্গেরিতে পালাননি। তিনি ভালবাসার মানুষকেই অনেক বেশি নিরাপদ মনে করেছেন। তাই হাজার হাজার কিলোমিটার পেরিয়ে যুদ্ধবিদ্ধস্ত ইউক্রেন থেকে দিল্লিতে আসেন আনা। প্রেমিকা বিমানবন্দরে পা রাখতেই আর দেরি না করে সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ফেলেন অনুভব।
তবে আনার এ দেশে আসাটা খুব একটা সহজ ছিল না বলে জানিয়েছেন অনুভব। কিয়েভ থেকে পালিয়ে প্রথমে লিভিভে যান আনা। সেখানে এক রাত কাটানোর পর বাসে করে স্লোভাকিয়া সীমান্তে পৌঁছান। সেখানে অনুভবের বন্ধুরা আনাকে পোল্যান্ডে পৌঁছাতে সাহায্য করেন। পোল্যান্ডের ভারতীয় দূতাবাস থেকে ভিসার অনুমতি পাওয়ার পর ভারতে চলে আসেন আনা।
দেশ ছেড়ে প্রেমিকা তার কাছে আসছে, অতএব আর দেরি নয়। আনাকে জীবনসঙ্গী বানিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করেন অনুভব। আনা বিমানবন্দরে পৌঁছাতেই তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন অনুভব। তিনি জানিয়েছেন, এক মাসের মধ্যে বিয়ে সেরে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে। বিয়ের পর ভারতের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করবেন আনা।
