রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে জমিতে সেচ না পাওয়ায় দুই আদিবাসী কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনাকে কাঠামোগত হত্যা উল্লেখ করে প্ররোচনাকারীর শাস্তির দাবি জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বুধবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এই দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে সহযোগী অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম কনক বলেন, বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত এই পানি সেচের প্রকল্পটির দায়িত্বে থাকা সাখাওয়াত হোসেনের কাছে সেচের জন্য পানি চাইতে গেলে তাদের (আদিবাসী কৃষক) পানি না দিয়ে বিষ খেতে বলে। তারা এই অপমান সহ্য করতে না পেরে দুঃখে বিষ পান করে আত্মহত্যা করে। এটি আত্মহত্যা নয়, একটি কাঠামোগত হত্যা। আমরা আগে পানি ব্যবস্থাপনার সুষ্ঠু সমাধান চাই ও সাখওয়াত হোসেনকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।
মানববন্ধনে রাবি শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি শাকিলা খাতুন বলেন, রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে জমিতে সেচের পানি না পাওয়ার কারণে আত্মহত্যা করেছেন দুই আদিবাসী কৃষক। স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার প্ররোচনায় তারা আত্মহত্যা করেছেন। সেচের দায়িত্বে ছিলেন ওই আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি তার ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়েছেন আদিবাসীদের ওপর।
তিনি আরও বলেন, তারা কৃষকদের জিম্মি করে মুনাফা লাভ করে। একজন কৃষকের সর্বোচ্চ প্রতিবাদ তিনি তার জীবন দিয়ে করে গেছেন। আমরা এই পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানাই এবং নিরাপত্তা দেওয়ার দাবি জানাই। আমরা এই সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং বিচারের দাবি জানাচ্ছি। পুলিশ সাখাওয়াতকে এক সপ্তাহের মধ্যেও গ্রেপ্তার করতে পারে নাই। এমনকি প্রথম দিকে মামলাও নেয়নি।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ মার্চ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার নিমঘুটু গ্রামের দুই আদিবাসী কৃষক অভিনাথ মার্ডি ও রবি মার্ডি তাদের ধানক্ষেতে পানি না পেয়ে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনার পর তোলপাড় শুরু হলে নলকূপ অপারেটর সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ এই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
