সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি সরকারের অঙ্গুলি হেলনে চলে না: আইনমন্ত্রী

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২২, ০৮:১৮ পিএম

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ফল প্রকাশে দেরি হওয়া নিয়ে বৃহস্পতিবার সংসদে আলোচনা উঠেছে। বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ একে নজিরবিহীন ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন।

জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি সরকারের অঙ্গুলি হেলনে চলে না। সমিতির নির্বাচনের ফল নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা নিরসনে সমিতির সিনিয়র সদস্যরা ও সাবেক নেতারা মিলে নিষ্পত্তি করবেন। বুধবার আইনজীবী সমিতির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আইন পাশের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির এমপি হারুনুর রশীদ বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু দুই সপ্তাহেও ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। ৫০ বছরের ইতিহাসে এটি নজিরবিহীন ঘটনা। এটি হতে পারে না। এটি বিরাট লজ্জার। আইন পাশ হওয়ার পর হারুনের বক্তব্যের জবাব দিতে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ভোট গণনা নিয়ে সদস্য ও প্রার্থীদের আপত্তি আছে। এ বিষয়ে কী হবে তা সমিতি ঠিক করবে। তারা সভা করেছে। সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, সমিতির জ্যেষ্ঠ সদস্য ও সাবেক সভাপতি-সম্পাদকেরা বসে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটি কীভাবে নিষ্পত্তি করবেন। এটি সরকারের ঘাড়ে চাপানো ঠিক হয়নি।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে (২০২২-২৩) ভোট শেষ হওয়ার দুই সপ্তাহ পরও ফল ঘোষণা করা হয়নি। সম্পাদক পদে একজন প্রার্থীর পুনরায় ভোট গণনা চেয়ে আবেদন এবং পরে নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত উপকমিটির আহ্বায়কের পদত্যাগকে কেন্দ্র করে ফল ঘোষণা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়।

এ পরিস্থিতিতে দুই সপ্তাহের মাথায় করণীয় ঠিক করতে বুধবার বিকেলে সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটি জরুরি সভায় বসে।

গত ১৫ ও ১৬ মার্চ সমিতির নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হয়। ১৭ মার্চ বিকেল সাড়ে চারটায় ভোট গণনা শুরু হয়, চলে রাত পর্যন্ত।

সভাপতি পদে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সাদা প্যানেলের প্রার্থী মোমতাজ উদ্দিন ফকির এবং সম্পাদক পদে বিএনপি-সমর্থিত নীল প্যানেলের প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস (বর্তমান সম্পাদক) ভোটে এগিয়ে ছিলেন।

ওই রাতে একপর্যায়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সাদা প্যানেল থেকে সম্পাদক প্রার্থী আবদুন নূর পুনরায় ভোট গণনা চেয়ে নির্বাচন পরিচালনা–সংক্রান্ত আহ্বায়ক কমিটির কাছে আবেদন করেন। এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে হইচই-হট্টগোল হলে নির্বাচন পরিচালনাসংক্রান্ত উপকমিটির আহ্বায়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মসিউজ্জামান সমিতির কমিটির কাছে পদত্যাগপত্র দেন। এরপরই ভোটের ফলাফল ঘোষণা নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়।

সমিতির বিধি অনুযায়ী, বর্তমান কমিটির মেয়াদ আজ শেষ হচ্ছে। নতুন কমিটির ১ এপ্রিল দায়িত্ব নেওয়ার কথা। তবে বর্তমান কমিটি গত বছরের ১২ এপ্রিল বার্ষিক সাধারণ সভার মাধ্যমে পরবর্তী এক বছরের জন্য দায়িত্ব বুঝে নেয়। গত নির্বাচনে (২০২১-২২) ১৪টি পদের মধ্যে সভাপতিসহ আটটি পদে সাদা প্যানেলের প্রার্থীরা এবং সম্পাদকসহ ছয়টি পদে নীল প্যানেলের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত