ডোমার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থেকে তোফায়েলকে অব্যাহতি

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২২, ০৬:৪৮ পিএম

নীলফামারীর ডোমার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে তোফায়েল আহমেদকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডোমার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুল আলম বাবুল।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) গভীর রাত পর্যন্ত নীলফামারী শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তোফায়েল আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদানের ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির রংপুর বিভাগের দায়িত্বে থাকা সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক।

এ ব্যাপারে সাংবাদিকরা সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দলের সভাপতির নির্দেশে সংগঠন বিরোধী ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ডোমার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে তোফায়েল আহমেদকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) নীলফামারী জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে জেলার ছয় উপজেলা, চার পৌরসভা, ৬০ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং ইউপি নির্বাচনে মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে এক বিশেষ বর্ধিত সভার আয়োজন হয়।

জেলা শিল্পকলা একাডেমি হলরুমে বেলা ১২টায় শুরু হয়ে বিশেষ বর্ধিত সভাটি শেষ হয় রাত ১টায়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাখাওয়াত হোসেন শফিক।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল হকের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া।

জানা যায়, ২০১৩ সালের ৬ জুন ডোমার উপজেলার আওয়ামী লীগের সম্মেলনে তোফায়েল আহমেদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ওই কমিটিটি ২০১৯ সালের ১৫ জুন অনুমোদন পায়। এরপর তোফায়েল আহমেদ গত উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচিত হন।

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার পর তোফায়েল আহমেদ এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তাচ্ছিল্য করে আসছিলেন। বীর মুক্তিযোদ্ধারা অভিযোগ তোলেন তোফায়েল আহমেদ স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার পরিবারের সন্তান। তার বাবা শওকত আলী রাজাকার। তিনি উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের পিস কমিটির সভাপতি ছিলেন। এলাকার ‘কুখ্যাত রাজাকার’ সামছুল হক টগরার ঘনিষ্ঠ সহচর থেকে তোফায়েলের বাবা যুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেন ও লুটপাটে সহযোগিতা করেন। এ ছাড়া তোফায়েল আহমেদ ফ্রিডম পার্টি করতেন। সরকারি প্রজ্ঞাপনের আলোকে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে ডোমার উপজেলায় স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানে তোফায়েল আহমেদ জাতীয় পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন করে আসায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা সেসব অনুষ্ঠান বর্জন করে আসছিল। সর্বশেষ গত ২৬ মার্চ একই ঘটনা ঘটলে অনুষ্ঠানস্থলে তোফায়েল আহমেদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের লাঞ্ছিতসহ অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পাশাপাশি স্বাধীনতা দিবসের এক দলীয় আলোচনা সভায় তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কটূক্তিসহ দলীয় এক কর্মীকে পায়ের সেন্ডেল খুলে মারেন। যার ভিডিও ভাইরাল হয়। এ ছাড়া উপজেলার সব ঠিকাদারি কাজ তিনি এককভাবে হাতিয়ে নিতেন। যা বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ পায়।

আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায়, তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে সংগঠনবিরোধী ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের ঘটনা দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবগত হন। প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় হাইকমান্ডের নির্দেশে তাকে ডোমার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা আসতে পারে এমন অভাসও দিয়েছে দলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত