জনতাকে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে: চরমোনাই পীর

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২২, ০৮:৩০ পিএম

গোটা সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় এক ধরনের নৈরাজ্য চলছে দাবি করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, জনতাকে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেছেন, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধি দেশে এক ধরনের দুর্ভিক্ষ জন্ম দিয়েছে। লাখ লাখ মানুষ ক্ষুধা পেটে ঘুমাতে যাচ্ছে। খাবারের জন্য খাদ্য ট্রাকের পেছনে মানুষ দৌড়াচ্ছে। জাতিকে নেশাগ্রস্ত করে স্বার্থ হাসিলের পাঁয়তারা চলছে। দেশ আর এভাবে চলতে পারে না।

শুক্রবার রাজধানীর গুলিস্তান শহিদ মতিউর রহমান পার্কে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত মহাসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে বিভিন্ন মিছিল নিয়ে গুলিস্তান এলাকায় জড়ো হতে থাকেন দলটির নেতাকর্মীরা। এছাড়া সারা দেশ থেকে সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতা কর্মীরা বাস, ট্রাক, লঞ্চ ও প্রাইভেটকার ভাড়া করে সমাবেশস্থলে আসেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গুলিস্তান এলাকায় জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সমাবেশস্থল ছাড়া আশে পাশে রাস্তায় দলটির নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও সতর্ক অবস্থান নেন। গুলিস্তান, শাপলা চত্বর, বায়তুল মোকাররম, পল্টন মোড় এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিপুলসংখ্যক পুলিশ। এছাড়া সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও বেশ তৎপর ছিলেন।

সমাবেশে ইসলামের আদর্শের আলোকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বর্তমান সংসদ ভেঙে দিয়ে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে একটি দল নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে সকলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানান। মহাসমাবেশে ১৫ দফা দাবি এবং ৮ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

রেজাউল করীম বলেন, স্বাধীনতার ৫১তম বর্ষে এসেও আজকের সরকার ৭১ পূর্ববর্তী সরকারের মতো, নিপীড়নমূলক আচরণ করছে। দেশের সাধারণ নাগরিকদের কোনো অধিকার ও সম্মান নেই। সকল অধিকার ভোগ করছে ক্ষমতাসীন এবং তাদের দোসররা। অথচ স্বাধীনতা উত্তর দেশের মানুষ স্বপ্ন দেখেছিল, স্বাধীন দেশে তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে। বাক স্বাধীনতা পাবে, ন্যায়বিচার পাবে। জান-মাল, ইজ্জত-আবরু এবং জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে বেঁচে থাকতে পারবে।

মাদক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাদকে একটি সাধারণ ও সহজলভ্য পানীয় বানিয়ে ফেলা হয়েছে। যার মাধ্যমে গোটা দেশের তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। দেশের মানুষ আজ আতঙ্কিত। দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরাও চিন্তিত। দেশময় সংঘাত আর সহিংসতার অশনিসংকেত পাওয়া যাচ্ছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নবম জাতীয় সংসদে একতরফাভাবে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাশ করার পর থেকেই রাজনৈতিক সংকটে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনরা এবারও জাতীয় সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন করতে চায়। জাতীয় সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন হলে, সেই নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে না। বরং আবারও ২০১৪ ও ১৮ এর নির্বাচনের মতো নির্বাচনের নামে প্রহসন হবে। রাতের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সংসদের কোন নৈতিক বৈধতা নেই। এই অবৈধ সংসদ বহাল রেখে কোন নির্বাচন দেশবাসী মেনে নেবে না। অতএব আমরা বর্তমান সংসদ ভেঙে দিয়ে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে একটি দল নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে সকলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন চাই।

যারা দেশপ্রেমের কথা বলে ক্ষমতায় গিয়ে এসব অপকর্ম করে, তারা দেশপ্রেমিক নয়; ক্ষমতা প্রেমিক। ক্ষমতা প্রেমিকরাই বিগত দিনে দেশ শাসন করেছে। এই ক্ষমতা প্রেমিকরা দেশের দুশমন, জনগণের দুশমন। আগামী নির্বাচনে ক্ষমতা প্রেমিকদের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিকদের ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। দেশের দুশমনদের এবং জনগণের দুশমনদের পরাজিত করতে না পারলে, দেশে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে না।

মহাসমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন- দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম, মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মাওলানা আব্দুল হক আজাদ, মহাসচিব হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহম্মেদসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত