শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার পরদিন মারধরের শিকার হলেন আ.লীগ নেতা

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২২, ০৫:৪০ পিএম

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বিনাহালি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার পরদিনই মারধরের শিকার হলেন লাঞ্ছিতকারি সেই আওয়ামী লীগ নেতা।

আহত অবস্থায় আওয়ামী লীগ নেতা মকলেছার রহমানকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে বিনাহালি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এই মারপিটের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর বন্ধ রয়েছে ওই বিদ্যালয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আদমদীঘি উপজেলার বিনাহালি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। গতকাল রবিবার বেলা ১১ টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক মকলেছার রহমান প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ঢুকে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এর একপর্যায়ে আজাহার আলী নামের এক সিনিয়র শিক্ষককে তিনি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

ওই ঘটনার পরপরই ছাত্রীরা মকলেছার রহমানের বিচার দাবিতে বিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করে। শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

এরই মাঝে সোমবার বেলা ১১টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা মকলেছার রহমান আদমদীঘি উপজেলা সদরের ভাড়ার বাসা থেকে বিনাহালি গ্রামে যান। তিনি বালিকা বিদ্যালয়ের কাছে পৌঁছালে স্থানীয় একদল লোক তার ওপরে হামলা করে। পরে ওই গ্রামের তার নিকটাত্মীয় ও থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত মকলেছার রহমানকে উদ্ধার করে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

মকলেছার রহমান অভিযোগ করেন, রবিবারের ঘটনার জের ধরে শিক্ষক আজাহার আলী ও তার লোকজন পথরোধ করে হত্যার উদ্দেশে তাকে (মকলেছার) মারধর করে।

যোগাযোগ করা হলে শিক্ষক আজাহার আলী বলেন, তাকে মারপিট করার কথা শুনেছি। তবে কে বা কারা সেটি করেছে তা জানা নেই।

আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দীন বলেন, আহত মকলেছার রহমানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি মামলা করবেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। মামলা দায়েরের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত