বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে করা মামলা চলবে কি না তা জানা যাবে আগামী বুধবার।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা এই মামলা বাতিলের আবেদন খারিজের হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিলের শুনানি নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে গঠিত আপিল বেঞ্চ এ দিন ধার্য করে।
আদালতে জোবাইদার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।
দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘উনি (জোবাইদা) মামলা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। সেটি খারিজ হয়েছিল। এরপর তিনি লিভ টু আপিল করেছিলেন। এর শুনানি আজ (গতকাল) হয়েছে। এখন তার বিরুদ্ধে মামলা চলবে কি না সেটি বুধবার জানা যাবে।’
ওয়ান-ইলেভেনের পটভূমিতে তারেক রহমান গ্রেপ্তার হয়ে ২০০৮ সালে কারামুক্তি পান। এরপর স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে যান তিনি। দীর্ঘদিন ধরে জোবাইদা স্বামীর সঙ্গে সেখানেই রয়েছেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমান দুর্নীতির একাধিক মামলাতেও দণ্ডিত হয়েছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, তারেক রহমান, তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান ও তারেকের শাশুড়ি সৈয়দ ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে ৪ কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কাফরুল থানায় মামলা করে দুদক। এ মামলায় জোবাইদা রহমান ও তার মা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে তারেক রহমানকে অপরাধে সহায়তা ও তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়। তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ৩১ মার্চ সংশ্লিষ্ট আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় দুদক। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মামলা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন জোবাইদা রহমান। পরে ওই বছর হাইকোর্টের আদেশে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল দেয় হাইকোর্ট। ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল হাইকোর্ট এক রায়ে রুল নিষ্পত্তি করে জোবাইদা রহমানের আবেদন খারিজ করে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়।
