মুন্সীগঞ্জের বিজ্ঞান শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলকে হেনস্তার প্রতিবাদ ও মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী।
শুক্রবার বিকেলে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশ থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে সাম্প্রদায়িকতার প্রতিরোধ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে জাতীয় জাগরণের আহ্বান জানানো হয়। বিজ্ঞানের সত্যকে প্রচার করার কারণে একজন শিক্ষককে কারাগারে যেতে হচ্ছে। দেশকে মধ্যযুগে ফিরিয়ে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে বলে মনে করেন উদীচীর নেতারা।
উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জমশেদ আনোয়ার তপনের সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উদীচীর কেন্দ্রীয় সহসভাপতি অধ্যাপক এ এন রাশেদা। এতে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক বদিউর রহমান, অভিজিত রায়, সাংস্কৃতিককর্মী সঙ্গীতা ইমাম, অমিত রঞ্জন দে, ঢাকা মহানগর সংসদের সাধারণ সম্পাদক আরিফ নূর প্রমুখ।
‘মানব না এই বন্ধনে, মানব না এই শৃঙ্খলে/মুক্ত মানুষের স্বাধীনতা অধিকার খর্ব করে যারা ঘৃণ্য কৌশলে’ ও ‘অধিকার কেড়ে নিতে হয়/অধিকার লড়ে নিতে হয়’ গণসংগীতের মাধ্যমে শুরু হয় এই প্রতিবাদী আয়োজন। সমাবেশে আবৃত্তি করেন শিখা সেন গুপ্ত।
বক্তারা বলেন, বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। মৌলবাদী আগ্রাসন এখন এমনভাবে গ্রাস করেছে যে, মুক্ত চিন্তাকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে, বাউলেরা প্রাণ খোলে গান গাইতে পারছেন না, লেখকেরা লিখতে পারছেন না। এই অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য বাহাত্তরের সংবিধান পুনঃপ্রবর্তন করতে হবে। অবিলম্বে হৃদয় মণ্ডলকে মুক্তি দিতে হবে। তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
অধ্যাপক এ এন রাশেদা বলেন, ‘শিক্ষক হৃদয় মণ্ডল তার ক্লাসে সত্য সুন্দরের কথা বলেছেন। কিন্তু তাকে সাম্প্রদায়িক চক্রান্তে জেলে পাঠানো হয়েছে। এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে জাগরণ চাই, বিবেকের জাগরণ চাই। বিজ্ঞান শিক্ষাকে জনপ্রিয় করার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’
অধ্যাপক বদিউর রহমান বলেন, ‘এই স্বদেশ মুক্তিযুদ্ধে অর্জন স্বদেশ, এই স্বদেশ বাহাত্তরের সংবিধানের স্বদেশ, ধর্মনিরপেক্ষতার স্বদেশ। কিন্তু আজ উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ। এই স্বদেশ আমরা চাই না।’
গত ২২ মার্চ মুন্সীগঞ্জ সদরের পঞ্চসার ইউনিয়নের বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলকে ‘ধর্ম অবমাননা’র অভিযোগে পুলিশ আটক করে।
