সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে প্রচারণা, ইমরানের সোশ্যাল মিডিয়া টিম গ্রেপ্তার

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২২, ০৪:০২ পিএম

সদ্য ক্ষমতা হারানো পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের ৮জন সোশ্যাল মিডিয়া কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার বিরুদ্ধে অপমানজনক প্রচার চালানোর অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ) মঙ্গলবার পাঞ্জাব প্রদেশের বিভিন্ন অংশে এই গ্রেপ্তার অভিযান চালায়।

গত ৯ এপ্রিল বিরোধী জোটের অনাস্থা প্রস্তাব সফল হওয়ার পর ইমরান খানকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অপসারণ করা হয়। তার পরের দিনগুলোতে জেনারেল বাজওয়ার বিরুদ্ধে টুইটারে প্রচারণা চালানো হয়।

এফআইএ জানায়, তারা গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে সেনাপ্রধান এবং শীর্ষ আদালতের বিচারকদের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণায় জড়িত ৫০ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তির একটি তালিকা পেয়েছে এবং তাদের মধ্যে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

হাজার হাজার টুইটে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং সেনাপ্রধানকে ইমরান খানের ক্ষমতাচ্যুতির জন্য দায়ী করা হয়। বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে তারা ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করেছেন।

ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আসাদ উমর এক টুইটে বলেছেন, ‘পিটিআই সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্টদের হয়রানিমূলক গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করে পিটিশন চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং বুধবার উচ্চ আদালতে তা দায়ের করা হবে’।

ওদিকে, গতকাল মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে ‘অপপ্রচারের বিষয়ে’ পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর ৭৯তম ফরমেশন কমান্ডারস কনফারেন্সে আলোচনা হয়েছে। এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন চিফ অব আর্মি স্টাফ জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মানহানি এবং সামরিক বাহিনী ও জনগণের মধ্যে বিভাজন তৈরিতে কিছু গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক অপপ্রচারের বিষয়টি সম্মেলনে নোট আকারে নেওয়া হয়েছে।

আইএসপিআর বলছে, পেশাগত বিষয়াদি, জাতীয় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এবং প্রথাগত ও অপ্রথাগত হুমকি প্রতিরোধে নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে সম্মেলনে অবহিত করা হয়। উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাহিনীগুলোর আভিযানিক প্রস্তুতি এবং পাল্টা ব্যবস্থার ধরন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সেনাপ্রধান।

জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি ‘অলঙ্ঘনীয়’ উল্লেখ করে সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আরও বলেছে, ‘কোনো ধরনের ছাড় না দিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী সব সময় পাশে দাঁড়িয়েছে। যেকোনো মূল্যে সংবিধান ও আইনের শাসন বহাল রাখতে নেতৃত্বের সুচিন্তিত অবস্থানের প্রতি পরিপূর্ণ আস্থা জানিয়েছে ফোরাম’।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত