‘কোস্টগার্ডের গুলিতে’ নিষিদ্ধ জালে মাছ ধরতে যাওয়া জেলে নিহত

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২২, ০৭:২৭ পিএম

বঙ্গোপসাগরে নিষিদ্ধ জাল বসিয়ে মাছ ধরার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মোহাম্মদ রাশেল (১৯) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার দক্ষিণ পরুয়াপাড়া ছত্তার মাঝি ঘাটের পশ্চিমে সাগরে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা নৌ পুলিশের কাছে অভিযোগ করে, নিষিদ্ধ জাল জব্দের সময় হামলার জের ধরে কোস্টগার্ড গুলি চালিয়েছে। তবে এ অভিযোগ নাকচ করে কোস্টগার্ড।

নিহত রাশেল উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পরুয়াপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ রফিকের ছেলে।

নিহতের বাবা মো. রফিক বলেন, কোস্টগার্ডের সদস্যরা গুলি করে আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের মামা মো. এনাম বলেন, আমরা মাছ ধরার সময় একটি বাহিনীর পরিচয় দিয়ে জালগুলো তুলে নিতে চাইলে বাধা দিই। এ সময় রাশেলকে গুলি করা হয়।

নৌ পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাশেলসহ স্থানীয় কয়েকজন মৎস্যজীবী সাগরে মাছ ধরার জন্য বাঁশের খুঁটিতে পেকুয়া জাল বসায়। মৎস্য আইন অনুযায়ী পেকুয়া জাল দিয়ে মাছ ধরা নিষিদ্ধ। বুধবার দুপুরে সাগরে বসানো জাল তুলে নিয়ে যাচ্ছে কোস্টগার্ড, এমন খবরে রাশেলসহ আরো কয়েকজন মৎস্যজীবী সাগরে যান। পরে রাশেলকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ছত্তার মাঝি ঘাটের বেড়িবাঁধে নিয়ে আসেন মৎস্যজীবীরা। তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক নিশাত সুলতানা বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই মারা যান রাশেল। গুলির আঘাতে রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, মৎস্যজীবীরা সাগরে জাল বসানোর পর কোস্টগার্ডের একটি টিম জালগুলো জব্দ করতে যায়। তখন মৎস্যজীবীদের সঙ্গে কোস্টগার্ড সদস্যদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হলে কোস্টগার্ড গুলি চালায়। এতে রাশেল গুলিবিদ্ধ হয়।

রায়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো.আমিন শরীফ জেলেকে মেরে ফেলা হয়েছে দাবি করে এ ‘হত্যাকাণ্ডের’ সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবি করেন।

স্থানীয়দের এ অভিযোগ নাকচ করে কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের স্টাফ অফিসার (অপারেশন) লে. কমান্ডার মো. আশফাক বলেন, সাগরে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক তরুণের মৃত্যুর তথ্য আমরা পেয়েছি। তবে সেখানে কোস্টগার্ডের কোনো টিম অভিযানে ছিল না। কে বা কারা গুলি করেছে, এর সঙ্গে কোস্টগার্ডের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

গহিরা বার আউলিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নাছির উদ্দিন রাসেল বলেন, কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সেটি আমরা নিশ্চিত নই। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের পর বিষয়টি জানা যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত