সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের সড়াতৈল দক্ষিণপাদা গ্রামে বৃহস্পতিবার দুপুরে পারিবারিক কলহের জেরে সাখাওয়াত হোসেন বন্দি (৫২) নামে এক কৃষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় পুলিশ তার দুই ছেলে রুবেল (২২) ও রাকিবকে (১৮) প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়েছে।
নিহত বন্দির বোন হোসনে আরা খাতুন ও সাদিয়া খাতুন জানান, এ দিন দুপুর ২টার দিকে পারিবারিক কলহের জের ধরে ছেলে রুবেলের বউ আলপনা খাতুনের সঙ্গে শ্বাশুরি রেবা খাতুনের ঝগড়া হয়। খবর পেয়ে একই গ্রামের বাসিন্দা আলপনার বাবা আলতাব হোসেন (৫৫), মা শিফু খাতুন, ভাই সাগর(১৮) ছুটে এসে রেবা খাতুনকে মারধর করতে থাকেন। এ সময় তাকে উদ্ধারে বন্দি এগিয়ে গেলে রুবেল, তার শ্বশুর, শ্বাশুড়ি, শ্যালক ও স্ত্রী মিলে কাঠের পিড়ি দিয়ে তার মাথায় ও বুকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হর। তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে শাহজাদপুরের বিসিক বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রেবা থাতুন ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার এসআই মঞ্জুরুল জানান, প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে পারিবারিক কলহের জের ধরে রুবেলের বাবা-মায়ের সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মারধরের ঘটনায় বন্দি নিহত হয়েছেন। এর সঙ্গে রুবেলও জড়িত থাকতে পারে। তাই তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে আলতাব হোসেনের ভাতিজা নবী হোসেন স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, রুবেলের ছোট ভাই রাকিবকে সিএনজি কিনে দেয়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে রুবেল তার বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। এ হত্যায় তাদের পরিবারের কেউ জড়িত নয়।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি শাহিদ মাহমুদ বলেন, এ হত্যায় রুবেলের শ্বশুরবাড়ির লোকজন জড়িত। ঘটনার সময় সেখানে রুবেলও উপস্থিত ছিল। তাই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রুবেল ও রাকিবকে থানায় আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য উদ্ধার করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। শুক্রবার ভোরে ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের লাশ সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।
