বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘দেশের বিচার বিভাগের স্বাধীন নয়, তাই গুম-খুনের বিচার চাইতে বিএনপি আন্তর্জাতিক আদালতে যাবে।’
শনিবার রাজধানীর বনানীতে গুমের শিকার বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলির পরিবারকে ঈদ উপহার দিতে গিয়ে তিনি এসব বলেন।
ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনার সঙ্গে কথা বলার পর মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ধরে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে নেতাকর্মীদের গুম করেছে। অথচ তারা অস্বীকার করছে। তাদের মধ্যে কোনো উদ্বেগ বা উদ্যোগ নেই। ইলিয়াস আলীর অবর্তমানে তার পরিবার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে পারছেন না। এ বিষয়গুলো তার পরিবারের কাছে একটা মর্মান্তিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার মেয়ের ভর্তির ব্যাপারে অনেক সমস্যার মধ্যে তাদের পড়তে হয়েছে। আজকে শুধু ইলিয়াস আলীর পরিবার নয়, গুম হওয়া সব পরিবারগুলো এমন কষ্টের মধ্যে আছে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘ইলিয়াস আলীর সন্ধানে সরকারের প্রচেষ্টা জনগণ দেখছে না। যখন ইলিয়াস আলীকে তুলে নিয়ে গেছে বাসার কাছ থেকে তখন আশেপাশের মানুষজন দেখেছে যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে। যারা দেখেছেন তারাও গুম হয়েছেন, তার গাড়ির চালকও গুম হয়েছে। এতে বিষয়টি খুব পরিস্কার যে, এ সরকারের দ্বারাই এটা হয়েছে সেই কারণে তারা উদ্যোগ নিচ্ছে না।’
২০১২ সালে ১৭ এপ্রিল ইলিয়াস আলীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তার বনানীর বাসার কাছে আমতলী থেকে। তার স্ত্রী তাহসিনা রশদীর লুনা, এক ছেলে ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস এবং এক মেয়ে সাইয়ারা নাওয়াল।
পরে বিএনপি মহাসচিব দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এ পরিবারের কাছে ঈদ উপহার পৌঁছে দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী ও চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।
পরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা গুম হওয়া পরিবারগুলোর পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছি। সারাদেশে আমাদের দলের ভিকটিম পরিবারগুলোকে ঈদ উপহার পৌছে দেওয়া হয়েছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সম্প্রতি দুজন ক্রসফায়ারে মারা গেছে। এটা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার চার মাস পরে। আসলে সরকার র্যাবকে বেআইনি সব অমানবিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের কাজে ব্যবহার করছে। যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে গুম-খুন চলতে থাকবে।’
নিখোঁজ অবস্থা থেকে ফিরে আসা দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সালাহউদ্দিন আহমেদ ভারতের নিম্ন আদালতে মুক্তি পেয়েছিলেন পরে আবার আপার কোর্টে আপিল করে তাকে আটকে রাখা হয়েছে।’
