ইউক্রেনে আগ্রাসনের ১১তম সপ্তাহে এসে পূর্ব ইউক্রেনে এক নতুন সামরিক অচলাবস্থার মধ্যে আটকে পড়েছে রাশিয়া। রুশ বাহিনী খুব ধীরে অগ্রগতি অর্জন করলেও কোনো উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
ওদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের জন্য বিপুল পরিমাণ নতুন সামরিক তহবিল অনুমোদন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার তেল নিষিদ্ধ করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গত ১৮ এপ্রিল রাজধানী কিয়েভসহ ইউক্রেনের অন্যান্য এলাকা সেনা সরিয়ে এনে শুধু পূর্ব ডনবাস অঞ্চলকে ‘মুক্ত’ করার ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধের দ্বিতীয় পর্ব শুরু করে রাশিয়া। কিন্তু এতদিনেও সেখানে উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য অর্জন করতে পারেনি রুশ সেনারা।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা বিভাগ গত ৩০ এপ্রিল জানায় যে, ‘ইউনিট দক্ষতার অভাব এবং বিমান সহায়তায় সমন্বয়ের অভাবে মাটিতে রুশ সেনারা খুব একটা অগ্রগতি অর্জন করতে পারছে না’।
যুক্তরাজ্য জানায়, রাশিয়া শত শত ইউক্রেনীয় বিমান বিধ্বংসী সিস্টেম এবং ড্রোনকে ফাঁকি দিতে পারলেও ইউক্রেন এখনও তার নিজের আকাশসীমার বেশিরভাগেরই নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।
১ মে যুক্তরাজ্যের দ্য ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি ওফ ওয়ার বলেছে, ’২৪ ফেব্রুয়ারির আগের ফ্রন্ট লাইন বরাবর ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা অবস্থানগুলোতে রুশ সেনাদের আক্রমণগুলোও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে’।
‘জোলোট এবং ভিলনের মতো গ্রামগুলো দখল করতে রুশ সেনাদের বারবার ব্যর্থ হওয়া থেকে বোঝা যায় যে, রুশ আগ্রাসনের আগের ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানগুলো খুব শক্তিশালী এবং রুশ সেনাদের পক্ষে সেগুলো গুড়িয়ে দেওয়া সম্ভব নয়’।
রাশিয়া এমনকি মারিওপোলের আজভস্টাল ইস্পাত কারখানার প্রায় ২ হাজার ইউক্রেনীয় নৌ সেনাকেও এখনো পরাস্ত করতে পারেনি। যদিও পুতিন গত ২১ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে মারিওপোল শহরের উপর বিজয় ঘোষণা করেছেন।
যুক্তরাজ্যের দ্য ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি ওফ ওয়ার এর রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ভূ-রাজনীতির প্রভাষক আরেফ অ্যালোবেইদ বলেছেন, ‘ইউক্রেন রাশিয়ার জন্য ধীরে ধীরে দ্বিতীয় আফগানিস্তানে পরিণত হচ্ছে’।
আরেফ অ্যালোবেইদ আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘রুশরা যখন আফগানিস্তানে প্রবেশ করেছিল তখন তাদেরকে একটি শক্তিশালী ও বিশাল সাম্রাজ্য হিসেবে দেখা হতো। দশ বছর পর তারা পরাজিত হয়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। আমি বিশ্বাস করি আমেরিকানরা এখন ইউক্রেনেও একই দৃশ্য অর্জন করার চেষ্টা করছে’।
‘ইউক্রেন যুদ্ধ যদি মাত্র আর পাঁচ বছরও চলে তাতেও রাশিয়ার অর্থনীতি ভেঙে পড়বে। আমেরিকানদের কোনো তাড়া নেই, ইউরোপীয়ানদেরও কোনো তাড়া নেই। কিন্তু রাশিয়া অর্থনৈতিকভাবে অনেক দূর্বল। তাদের অর্থনীতি মাত্র দক্ষিণ কোরিয়ার সমান’।
