দাতা সংস্থার মাধ্যমে গৃহনির্মাণ ও গরু বিতরণের কথা বলে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চঞ্চল কুমার রায় (৩৫) নামে এক তরুণকে আটক করেছে কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকার আশুলিয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে শুক্রবার সকালে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। আটক চঞ্চল কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের মণ্ডলপাড়া গ্রামের নিকুঞ্জ কুমার রায় ও চন্দনা রানী রায়ের ছেলে।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. শাহরিয়ার জানান, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙা ও পাঁচগাছী ইউনিয়নে ‘কেয়ার বাংলাদেশ আরডিএফ প্রকল্পের’ স্টাফ পরিচয়ে চঞ্চল ২০২০ সালের ১ এপ্রিল স্থানীয় লোকজনকে গৃহনির্মাণ ও গরু-ছাগল বিতরণের কথা বলে বিভিন্ন প্রলোভন দেখায়। এ জন্য ঘর নির্মাণে ৩০ হাজার ৫শ’ টাকা এবং গরু বিতরণে ৫ হাজার ৫শ’ টাকা করে অনৈতিক সুবিধা চায়। এরপর ওই এলাকার শতাধিক পরিবার ধারদেনা করে কিংবা জমি বন্ধক রেখে টাকা সংগ্রহ করে চঞ্চল কুমার রায়কে প্রায় অর্ধকোটি টাকা প্রদান করে। এরপর থেকে তিনি গ্রামে আসা বন্ধ করে দেন।
পরে চঞ্চলের দেওয়া ঠিকানা সদর উপজেলার ত্রিমোহিনী বাজারে গিয়ে জানা যায় এই নামে কোন অফিস নেই। এরপর থেকে আত্মগোপনে চলে যায় অভিযুক্ত। এ নিয়ে প্রতারণার শিকার স্থানীয় লোকজন জনপ্রতিনিধিসহ থানায় একাধিক অভিযোগ দায়ের করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কুড়িগ্রাম সদর থানার একটি বিশেষ টিম বৃহস্পতিবার (১৯ মে) রাত থেকে ঢাকার আশুলিয়ায় অভিযান চালায়। এতে নেতৃত্ব দেন কুড়িগ্রাম সদর থানার এসআই আকতার, এসআই জিয়া, এএসআই শাহীন ও এএসআই আরিফ। তারা শিমুলতলী এলাকার একটি বেসরকারি গার্মেন্টস কারখানা থেকে চঞ্চলকে গ্রেপ্তার করে। রাতেই তাকে কুড়িগ্রামের উদ্যোগে নিয়ে আসা হয়।
ওসি শাহরিয়ার আরও জানান, এ ঘটনায় পেনাল কোড ৪০৬/৪১৯ ও ৪২০ ধারায় আসামির বিরুদ্ধে বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করেছেন সদর উপজেলার ভোগডাঙা ইউনিয়নের মধ্য কোমরপুর এলাকার মহিজ উদ্দিনের ছেলে হাফেজ উদ্দিন। মামলা নং-২৪। এ ছাড়া অর্থ উত্তোলনে জড়িত একই এলাকার উপীন সরকারের ছেলে নারায়ণ (৪৫) ও অমূল্য সরকারের ছেলে নিশি (২৫) ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে। তাদেরও গ্রেপ্তার চেষ্টা চলছে।
