নেত্রকোনা কলমাকান্দায় বাড়ির সামনে রাস্তায় ধান শুকানো কাজে ব্যস্ত ছিলেন হাসনা আক্তার (৬০) নামে এক বিধবা নারী। জিহাদ নামে প্রতিবেশি মোটরসাইকেল তুলে দেন ওই নারীর ওপর। এতে হাসনা আক্তার ছিটকে পড়ে যান রাস্তার পাশে। এদৃশ্য দেখে ওই নারীর বাক প্রতিবন্ধী ছেলে কাজল (৩০) মেজাজ হারিয়ে মোটরসাইকেলে লাঠি ও দা দিয়ে আঘাত করেন।
এর জের ধরে ঘটনার তিনদিন পর পথরোধ করে মোটরসাইকেল চালক জিহাদ ও তার চাচাতো ভাই দুজনে মিলে প্রতিবন্ধী যুবককে ইচ্ছে মতো মারধর করে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে।
এমন ঘটনা ঘটেছে উপজেলার পোগলা ইউনিয়নে পলাশহাটি গ্রামে। এ ঘটনায় চারদিন ধরে হাসনা আক্তার কোমর ও বুকের পাজরে আঘাত পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হাসনা আক্তারের সাথে কথা হলে তিনি জানান, কাজলের বাবা নাই, এতিম ছেলে। তারা (জিহাদের পরিবার) অতিরিক্ত করে আমার ছেলেদের ওপর। এবারসহ আরো কয়েকবার তারা আমার ছেলেকে মারছে। তারা ধনী ও শক্তিশালী মানুষ। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাজাদুজ্জামান জানান, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কাজলসহ তার ছোট ভাই লোকমান আমার কাছে আসে। লোকমান অভিযোগ করে জানায়, ওইদিন (মঙ্গলবার) বিকেল ৫টার দিকে তার প্রতিবন্ধী ভাই পোগলা নতুন বাজারে লেবু বিক্রি করে বাড়িতে ফিরতে ছিল। পথের মধ্যে জিহাদ ও তার চাচাতো ভাই রনি প্রতিবন্ধী ভাইকে ইচ্ছে মতো কিল ঘুষি ও লাথি মেরে নির্যাতন করেছে।
এ ব্যাপারে জিহাদের বাবা বাচ্চু মিয়া ও চাচা আতাউর রহমান তারা জানান, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার পর কাজল দা দিয়ে মোটরসাইকেলের ট্যাংকসহ বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। অন্যের ভাড়ায় আনা মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারপরেও হাসনা আক্তারকে দেখতে আমরা হাসপাতালে গিয়ে তার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের কথা জানিয়ে আসি। মোটরসাইকেল মালিককেও বলি মেরামত করার সকল খরচ বহন করার কথা। গত মঙ্গলবার বিকেলে অটোরিকশায় তুলে জিহাদ মোটরসাইকেল দিয়ে আসতে যাচ্ছিল। এসময় কাজল বাজার থেকে আসার পথে মোটরসাইকেলটি দেখতে পেয়ে মাথা গরম হয়ে পাগলের মতো আচরণ শুরু করে দেয়। অটোরিকশাসহ মোটরসাইকেলে আঘাত শুরু করে। এখন তারাই ঘটনা ঘটিয়ে আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
পোগলা ইউপির চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হক জানান, আজ (বুধবার) বিকেলে দুপক্ষকে নিয়ে বসা হবে। কীভাবে সামাজিকভাবে মীমাংসা করা যায়।
কলমাকান্দা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খোকন কুমার সাহা বলেন, এখানো কোন অভিযোগ পায়নি, পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
চলতি মাসের গত ৫ জুন (রবিবার) বিকেল ৫টার দিকে হাসনা আক্তার বাড়ির সামনে রাস্তায় প্রতিবেশির মোটরসাইকল তার উপরে উঠে পড়লে তিনি গুরুতর আহত হন। এরপর থেকে কলমাকান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।
