বদলি নেমে ৮০ মিনিটে সোহেল রানার লম্বা থ্রু দ্রুতগতিতে ধরে বক্সে ঢুকেই কিরন কুমার লিম্বুকে বোকা বানিয়ে দে ছুট। ঝটকায় খুলে ফেললেন নিজের পরনের জার্সি। তাতে একটা হলুদ কার্ড মিললেও কী আসে যায়! মাহবুবুর রহমান সুফিলের সেই গোলেই যে দীর্ঘ ৫ বছরের জয়ের বন্ধ্যত্ব ঘুচিয়েছিল বাংলাদেশ। ২০২০ সালের নভেম্বরে মুজিববর্ষ ফিফা আন্তর্জাতিক ফুটবল সিরিজের প্রথম ম্যাচে নাবিব নেওয়াজ জীবন ও সুফিলের গোলে আসে জয়। এর ছ’দিন পর গোলশূন্য ড্র করে সিরিজ জিতে নেয় স্বাগতিক বাংলাদেশ। দেড় বছর আগের সেই কীর্তির স্বীকৃতি আজ খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে পেয়েছেন তৎকালীন জাতীয় দলের সেই ফুটবলাররা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে দলটির ৩৩ জনকে আর্থিক পুরস্কার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কেবল সেই দল নয়, পুরস্কার পেয়েছেন গত বছর দেশের মাটিতে সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপ-জয়ী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সদস্যরা ও চলতি বছর বঙ্গবন্ধু চার জাতি ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-জয়ী বাংলাদেশকে। মোট ৮৮ জন পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কার। এর মধ্যে ৩৩ জন করে নারী ও পুরুষ ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা এবং ২২ জন ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড দলের সদস্য।
প্রত্যেকে খেলোয়াড় পেয়েছেন পাঁচ লাখ টাকা করে। আর কর্মকর্তারা পেয়েছেন দুই লাখ টাকা করে। প্রধানমন্ত্রী ডেকে নিয়ে এমনভাবে অনুপ্রাণিত করায় কৃতজ্ঞতা ঝরেছে সুফিলের কণ্ঠে, ‘উনি খেলাধুলাকে অনেক ভালোবাসেন। এভাবেই ক্রীড়াবিদদের ডেকে নিয়ে অনুপ্রেরণা দেন। সত্যি সরকারপ্রধানের কাছ থেকে এমন পুরস্কার পেয়ে গর্ববোধ করছি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও ভালো করার তাগিদ অনুভব করছি।’
প্রধানমন্ত্রীও খেলাধুলার প্রসারে সর্বাত্মক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সিলেটে ভয়ংকর বন্যা মোকাবিলার মতো খেলাধুলাকেও এগিয়ে প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বন্যাও আমরা মোকাবিলা করব এবং খেলাধুলাও আমাদের চলবে, সবই আমাদের চলবে। এটাই আমাদের জীবন, এটাকেই মেনে নিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘খেলোয়াড়রা কেবল খেলাধুলাই করবে এবং দেশে যত বেশি ক্লাব হবে, যত বেশি প্রতিযোগিতা হবে খেলাধুলায় তত বেশি উৎকর্ষ বাড়বে। সেই ধরনের পরিবেশ আমাদের গড়ে তুলতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ খেলাধুলার প্রচার ও প্রসারে আরও জোর দেওয়ার জন্য তার সরকারের আমলে বাংলাদেশ কান্ট্রি গেমস অ্যাসোসিয়েশনকে
স্বীকৃতি দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। এ ছাড়া সারা দেশে উপজেলা পর্যায়ে নির্মাণাধীন শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের কাজ আরও দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। যেসব জায়গায় স্টেডিয়ামের জন্য জমি পাওয়া যাবে না সেখানে প্রয়োজনে জমি কিনে প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল।
