নরসিংদীর রায়পুরায় পুলিশ পরিচয়ে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিদেশি মুদ্রাসহ ২৬ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় পাঁচ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাহেব আলী পাঠান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পশ্চিমমেড্ডা এলাকার মৃত ইসমাইল মিয়ার ছেলে জয়নাল আবেদীন (৪৮) , নবীনগর থানার মৃত জালাল মিয়ার ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ( ৫০ ), কুমিল্লা জেলার হোমনা থানার দৌলতপুর গ্রামের মৃত আবুল কাশেমর ছেলে মোঃ নাজির আহম্মেদ (৫৮), ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মধ্যমেড্ডা এলাকার মৃত ঝারু মুন্সির ছেলে মোঃ রাজিব মিয়া (৩৩) ও পশ্চিমমেড্ডা এলাকার মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে মোঃ শাহাজাহান মিয়া (৬০)।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভৈরবের ব্যবসায়ী দেলুয়ার হোসেনের ছোট ভাই মো. আক্তার হোসেন (৩৪) গত ১৬ জুন বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় ভৈরব বাজার থেকে ব্যবসার কাজ শেষ করে নগদ দুই লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা, ১৮ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ টাকার সৌদি রিয়াল, পাঁচ হাজার ইউএস ডলার নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি যাওয়ার পথে ঢাকা - সিলেট মহাসড়ক পার হয়ে রায়পুরার বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান নগর উত্তরপাড়া ব্রিজের ১০০ গজ দক্ষিণে পৌঁছলে অজ্ঞাতনামা ৬-৭ জন পুলিশের পোশাক পরে তাকে ধাওয়া করে। এ সময় আক্তার হোসেনের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তাকে টানা হেঁছড়া করে বেধম মারপিট করার পর তার ব্যাগে থাকা ২৬ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ঘটনার সময় তার দুটি মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেয়। এ সময় আক্তার হোসেনের ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসলে ছিনতাইকারীরা একটি নোহা সাদা রংয়ের মাইক্রোবাসে উঠে দ্রুত পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী দেলুয়ার হোসেন রবিবার রায়পুরা থানায় মামলা দায়ের করলে তদন্তে নামে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে গোপন সূত্র ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। এসময় তদের কাছ থেকে ২ সেট পুলিশের পোশাক, ১ জোড়া হ্যান্ডকাফ, ১টি বেল্ট, ২০০ ইউএস ডলার, ২০০০ সৌদি রিয়াল, ১১০০০ টাকা ও ডাকাতির কাজে ব্যাবহৃত নোহা গাড়ি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপারের কার্য্যালয়ে মামলার বাদি দেলুয়ার হোসেন বলেন, আমি রায়পুরা থানার রামনগর গ্রামের বাসিন্দা। আর ভৈরব হাবিব সুপার মার্কেটে মোবাইল ফোনের ব্যবসা ও পাশাপাশি হজ এজেন্সির সাথে কাজ করে থাকি। ঘটনার দিন আমার ভাইয়ের ডলার রিয়ালসহ ২৬ লাখ টাকা ছিনতাইকারীরা নিয়ে যায়। ছিনতাইকারীদের শরীরে পুলিশের পোশাক ছিল। তারা আমার ভাইকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। বিষয়টি আমি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করেছে। আমি তাদের যথাযথ বিচার ও বাকী আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাহেব আলী পাঠান বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা পুলিশ পরিচয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলো। পুলিশ পরিচয়ে কোনো ঝামেলা ছাড়াই তারা অপরাধ করতে পারছিলো বলে এটি তারা বেশি ব্যবহার করতো। তারা জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির ঘটনায় জড়িতের কথা স্বীকার করে। তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ১৬টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলমান আছে ও বাকী আসামিদের ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
