ঢাকা উত্তর আ.লীগের সম্মেলন ঘিরে উত্তরা ও তুরাগে ভিন্ন চিত্র

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২২, ০৩:৩০ পিএম

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষিত হয় গত জুন মাসে।  ২৩ জুলাই উত্তরা মডেল টাউন পূর্ব/পশ্চিম ও বিমানবন্দর থানা এবং পরদিন তুরাগ থানার সম্মেলন। এর মাধ্যমে উত্তরা মডেল টাউন ও এর অধীনে দুইটি ওয়ার্ড এবং তুরাগ থানা ও এর অধীন ৪টি ওয়ার্ডের নতুন কমিটি গঠন করা হবে।

ইতোমধ্যে উত্তরা মডেল টাউন সম্মেলন পিছিয়ে ২৯ তারিখ করা হয়েছে। তবে পূর্ব সূচিতেই হচ্ছে তুরাগ থানার সম্মেলন।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে থানা পর্যায়ে ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন করতে চায় মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ। অতীত ভুল-ত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে পরিশ্রমী ও ত্যাগী নেতাদের তাদের যোগ্য আসনে বসাতে চায় বলেও বলছে দলের একাধিক সূত্র।

সম্মেলনকে সামনে রেখে ব্যানার-পোস্টারে ছেয়ে গেছে থানা ও ওয়ার্ডগুলো। পদপ্রত্যাশী নেতাদের লবিং-তদবিরও চলছে জোরেশোরে। নগর উত্তরের থানাগুলোতে আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিতে কারা আসছেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। তবে উত্তরা পূর্ব ও বিমানবন্দর থানায় কোনো ওয়ার্ড না থাকায়, তেমন গুরুত্ব পাচ্ছে না। অন্যদিকে উত্তরা পশ্চিম ও তুরাগ এ দুটি থানায় এবারের কমিটি নিয়ে রয়েছে জটিল এক সমীকরণ।

উত্তরা পশ্চিম থানায় বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এই সময়ে তাদের বেশ কিছু সাংবাদের শিরোনাম হতে দেখা যায়। অন্যদিকে দীর্ঘদিন পর তুরাগ থানা আওয়ামী লীগে ভিন্ন একটি পরিবেশ বিরাজ করছে। সেখানে আগের রাজনীতির সবকিছু প্রয়াত একজন নেতাকে ঘিরে চললেও এবার ভিন্ন রূপ দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তুরাগ থানায় গত প্রায় ২০ বছর থেকে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন হরিরামপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত আবুল হাসিম। তার সঙ্গে চলতি সেশনে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন এমডি হালিম। সভাপতির মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন ৫৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন। এবারের সম্মেলনে তিনিও প্রার্থী।

সভাপতি পদে আরও তিনজন প্রার্থীর কথা শোনা যাচ্ছে— নুরুল ইসলাম সুরুজ (মোল্লা), এমডি হালিম ও লেহাজ উদ্দিন। তাদের মধ্যে দল ও সরকারে একাধিকবার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের আস্থাভাজন ছিলেন সুরুজ। তার প্রতি নগর নেতাদের বিশেষ নজর থাকায় বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

অপর দিকে একই থানার সাধারণ সম্পাদক পদে অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে; তাদের মধ্যে প্রয়াত সভাপতির ছেলে মহিবুল হাসান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাস্টার, সাদিকুর রহমান অন্যতম। তবে মহানগর উত্তরের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে থানায় সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ায় অনেককেই হতবাক করেছেন মহিবুল হাসান।

এ ছাড়া তুরাগের চারটি ওয়ার্ডে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে প্রায় অর্ধ শতাধিক নেতা বিভিন্নভাবে চেষ্টা-তদবির করে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য হাবিব হাসান দেশ রূপান্তরকে জানান, কারোর পছন্দ-অপছন্দের বিষয় নেই, শুধু লড়াই-সংগ্রামের মাঠে পরীক্ষিত কর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে। পকেট কমিটিরও সুযোগ নেই।

অন্যদিকে উত্তর পশ্চিম থানা সভাপতি পদে শোনা যাচ্ছে সাবেক উত্তর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও দুইবারের কাউন্সিলর মো. আফসার উদ্দিন খান, উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের ছোট ভাই আলাউদ্দিন আল সোহেল এবং অ্যাডভোকেট মনোয়ার ইসলাম চৌধুরী (রবিন)-সহ থানা আওয়ামী লীগের অনেকের নাম। অনেক নেতারাই ধারণা, কাউন্সিলর ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের ছোট ভাইয়ের মধ্যেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে।

এক‌ই থানার সাধারণ সম্পাদক পদে কাউন্সিলর শরিফুর রহমানের নাম শোনা যাচ্ছে। এ ছাড়া চলতি দায়িত্বে থাকা সাঈদ সিদ্দিকী কাক্কাসহ অনেকের নাম ব্যানার-ফেস্টুনে দেখা যাচ্ছে। ১ নং ওয়ার্ড ও ৫১ নং ওয়ার্ডে সভাপতি-সম্পাদক পদে দুই ডজন নেতা-কর্মীর নাম ঘুরে ফিরে আসছে।

এ দিকে সাধারণ কর্মীরা বলছেন, থানা ও ওয়ার্ড যারাই পদে আসুক না কেন সবাই যেন কর্মীবান্ধব হয়। সবকিছু ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে দলটিকে সুসংগঠিত করতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত